লন্ডন ফেরত বিমানে জঙ্গি আতঙ্ক, ওসমানী বিমানবন্দরে তুলকালাম

0 ৪৮৭
ফাইল ছবি

লন্ডন থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জঙ্গি থাকতে পারে এমন আতঙ্কে বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেছে। জঙ্গি আতঙ্কে বিমানটি ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণের আগেই বিমানবন্দরে বিপুল পরিমান পুলিশ-র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা জড়ো হন। যে কোনো ধরণের হামলা মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন তারা।

বিমানটি সকালে ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণের পরই পুরো বিমান ও বিমানের যাত্রীদের ভালো করে তল্লাশি করা হয়। ডগ স্কোয়াড দিয়েও তল্লাশি করা হয়। এতে সন্দেহজনক কিছু না পাওয়ায় দুপুরের দিকে ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রওয়ানা করে।

জানা যায়, বোয়িং-৭৭৭ বিমানটি হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করে লন্ডনের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিটে। এক ঘণ্টা পর ফ্লাইটটি যখন জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট অতিক্রম করছিল, তখন লন্ডনের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে পাইলটকে জানানো হয়- বিমানে জঙ্গি ও বোমা থাকতে পারে। এরপরই শুরু হয় পাইলট এবং ক্রুদের স্নায়ুর সঙ্গে যুদ্ধ।

জরুরী সংবাদটি পাওয়ার পর ফার্স্ট অফিসার আরিফের সঙ্গে আলোচনা করে কেবিন ক্রু চিফ পার্সার ডলিকে বিষয়টি অবগত করেন ফ্লাইট ক্যাপ্টেন ইসমাইল।

দুই পাইলটের নির্দেশনায় ডলি তার ক্রুদের নির্দেশ দেন ফ্লাইটের সকল যাত্রীকে নিরবে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করতে।

এর মধ্যে পাইলট ক্যাপ্টেন ইসমাইল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিমানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করেন।

একদিকে ঠাণ্ডা মাথায় পাইলটরা দেশের দিকে এগোতে থাকেন, অন্যদিকে কেবিন ক্রুরা অব্যাহত রাখেন তাদের পর্যবেক্ষণ।

সিদ্ধান্ত হয় ১০ ঘণ্টার ফ্লাইটটিকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ না করিয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করানো হবে। পরে সিদ্ধান্ত পাল্টে সিলেটেই যায় বিজি-২০২।

জরুরি বার্তা পাঠিয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরণের প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ফ্লাইটটি সিলেটে অবতরণ করে। তার আগেই সেখানে অবস্থান নেয় র‌্যাব-পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। প্লেনটি অবতরণের পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ফ্লাইটটিকে ঘিরে ফেলে। যাত্রীদের নামিয়ে র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হয় এয়ারক্রাফটের ভেতরে-বাইরে।

তবে, সন্দেহভাজন কোন কিছু পাওয়া না যাওয়ায় সিলেট থেকে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে যায়।

বাংলাদেশ বিমানের সিলেটের স্টেশন ম্যানেজার জিল্লুর রহমান বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে প্রস্তুত ছিলাম।

মন্তব্য
Loading...