এবার কি আছে হেভিওয়েট নেতাদের কপালে…….?

0 ১২১

আওয়ামী লীগে অর্ধেক মন্ত্রী ও শতাধিক এমপির কপাল পুড়তে পারে আগামী নির্বাচনে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানামুখী জরিপ চালিয়ে আসছেন আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে। সংসদীয় দলের সভায় বারবার বলেছেন, জরিপে যারা উঠে আসবে তারাই মনোনয়ন পাবে। এ যাবত নানামুখী জরিপে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট মন্ত্রী থেকে অনেক আলোচিত এমপিসহ শতাধিক প্রার্থীর অবস্থা নির্বাচনী এলাকায় নাজুক। কারো বয়স, কারো জনবিচ্ছিন্নতা কারো বা সিণ্ডিকেট নিয়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। তাদের পরিবর্তে তরুণ, মেধাবি, সৎ, এলাকায় পরিচ্ছন্ন ইমেজ নিয়ে যারা জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন তাদের হাতেই উঠছে নৌকা। শেখ হাসিনার নৌকার মাঝি হচ্ছেন কমপক্ষে ৫০ জন তরুণ প্রার্থী। ইতিমধ্যেই তারা নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকায় নৌকার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।

এদিকে, অনেক এমপিরা নিজস্ব নির্বাচনী এলাকায় গণবিরোধী কর্মকাণ্ডই করছেন না দলবিচ্ছিন্ন হয়ে অথনৈতিক বিত্তই গড়ে তোলেননি টেণ্ডার, কমিশন, চাঁদা, নিয়োগ বাণিজ্য মিলিয়ে ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করেছেন। বাইরে প্রতাপশালী হলেও ভেতরে জনপ্রিয়তা হারিয়ে সমালোচনার তীরে ক্ষত-বিক্ষত, কেউ কেউ নির্বাচনী অভিজ্ঞতা না থাকলেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা ভোটের এমপি হয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন নিজের ভিত্তি মজবুত না করে বিতর্কে জড়িয়েছেন। এতে করে জনমত জরিপে ছিটকে পড়া মন্ত্রী-এমপিদের জায়গায় জনপ্রিয় গণমুখী ও সৎ অনেক প্রার্থী উঠে আসছেন। পরিবর্তনের হাওয়ায় প্রায় দেড়শ আসনে প্রার্থী বদল করে ভোটযুদ্ধের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, গণমাধ্যমে যেসব চূড়ান্ত তালিকা প্রচার হচ্ছে তা সত্য থেকে দূরে রয়েছে। সকল জরিপ বিবেচনা করে খোদ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা একাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছেন। কাটাছেঁড়া চলছে, নির্বাচনের তফশীল ঘোষণার আগে পর্যন্ত শেখ হাসিনার প্রার্থী জরিপ অব্যাহত থাকবে। এ কারণেই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আল্লাহর পর কেবল শেখ হাসিনাই জানেন কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন? যাদের নাম গণমাধ্যমে চূড়ান্ত বলে এসেছে তাদের অনেকেই মনোনয়ন পাচ্ছেন না।

নানামুখী জরিপের যে চিত্র উঠে এসেছে উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী মন্ত্রী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান (টেকনোকেট), বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি (এবার টেকনাফের কোটায় হলেও) নির্বাচনী এলাকায় বিপর্যয়ের মুখে রয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত একজন সৎ মানুষ হিসেবে সব মহলে সম্মানিত। তিনি বলে আসছেন, আগামীতে নির্বাচন করবেন না। তার ছোট ভাই ড. এ কে আবদুল মোমেন প্রার্থী হতে মাঠে নামলে দলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জরিপে মুহিতের বিকল্প মুহিত থাকলেও একটি প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসা কঠিন বিষয়। সাবেক সচিব ও নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইনের নামও সিলেট সদর আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় উচ্চারিত হচ্ছে। নুরুল ইসলাম নাহিদ সম্পর্কে জাতীয়ভাবে ইতিবাচক ইমেজ থাকলেও এলাকায় দল ও মানুষের তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। একই অবস্থা কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীরও। এলাকায় দলের নেতাকর্মীসহ অনেকেই ক্ষুব্ধ অসন্তুষ্ট তার ওপর। সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের নির্বাচনী এলাকায়ও অবস্থান ভালো নেই। খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ওবায়দুল কাদের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দলের মুখপাত্র হিসেবে সারাদেশ নিয়ে দলের জন্য কঠিন পরিশ্রম করছেন। কিন্তু নোয়াখালী থেকে ফেনী পর্যন্ত যে অর্থনৈতিক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রতাপশালী হয়ে উঠেছে এতে সেইসব এমপিদেরই বিতর্কিত করেনি সেতুমন্ত্রীকেও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন দূরে থাক ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের বাইরে থেকে এবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করছেন। এতে করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে শতাধিক মন্ত্রী-এমপির কপাল পুড়বে আর জনপ্রিয় গণমুখী সৎ প্রার্থীদের কপাল খুলবে।

তরুণ প্রার্থীদের মধ্যে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকার বেশ বড় একটা অংশে থাকবে তরুণদের নাম। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মুখগুলোর বেশির ভাগই সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও বর্তমান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও রয়েছেন এই দলে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় মাঠপর্যায়ে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কয়েকটি তালিকা হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের। এক্ষেত্রে তরুণদের আলাদাভাবে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেই তালিকার ১২ জন তরুণ প্রার্থী নির্বাচনের আগে কোনো ধরণের দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কাজে লিপ্ত না থাকলে মনোনয়ন নিশ্চিতভাবেই পাচ্ছেন। দলের হাই কমান্ডের পক্ষ থেকে সময় মতো তাদের সবুজ সংকেত দেয়া হবে বলেও জানিয়েছে সূত্র।

যে ১২ জনের মনোনয়ন এখন পর্যন্ত নিশ্চিত রয়েছে, কেন তাদেরকেই বেছে নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে সূত্রটি জানিয়েছে, বর্তমান এমপির বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, সাধারণ মানুষের ওপর তার আত্নীয়, পরিবার পরিজনের অত্যাচার এবং দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি থেকে শুরু করে নিজ স্বার্থ রক্ষায় দলে জামায়াত-বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে তাদের জায়গায় নতুনদের মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে।

১২ জনের মধ্যে যারা মনোনায়ন পাচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম (শরীয়তপুর-২), সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোনা-৩), ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী (চাঁদপুর-৩), সাতক্ষীরা ২ (সদর) আসনে ব্যবসায়ী নেতা এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সদস্য ড. কাজী এরতেজা হাসান, মাগুরা-১ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর, গাইবান্ধার-৫ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ (বাগেরহাট-৪), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু (রাজবাড়ী-২), নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এ এইচ এম মাসুদ দুলাল, ঝালকাঠি -১ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মনিরুজ্জামান মনির, ঢাকা ২ আসনে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের জায়গায় নৌকার মাঝি হচ্ছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ।

এসব নেতা নির্বাচন সামনে রেখে অনেক দিন আগে থেকে এলাকায় যাওয়া-আসা করছেন। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে তাদের জনসংযোগ বেড়েছে। রাজধানী বা অন্যান্য শহরে বসবাসরত এসব নেতা একটু সময়-সুযোগ পেলেই ছুটে যাচ্ছেন নির্বাচনী এলাকায়। তারা দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নিয়মিত এলাকার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন সামাজিক অনুষ্ঠানে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ভোরের পাতাকে ফারুক খান বলেন, ‘এলাকায় জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও দলের প্রতি যাদের আনুগত্য রয়েছে তাদেরই আগামীতে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে। ’ ফারুক খান বলেন, ‘প্রতিবারই ৮০ থেকে ১০০ জন নতুন প্রার্থীকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। বিগত জাতীয় নির্বাচনে সেটা ৫০ জনেরও অধিক ছিল। এবার তা আরও বাড়বে। নতুন এ প্রার্থীদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত তরুণদেরই প্রাধান্য দেয়া হবে।

সূত্রঃ–ভোরেরপাতা

মন্তব্য
Loading...