আশরাফুল আগুনে পুড়লো শেখ জামাল

0 ২৫৩

অবশেষে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরা মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাটে হাসি ফুটেছে। গতকাল বিকেএসপি-৪ মাঠে তার অপরাজিত ৮১ রানে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ২১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে দ্বিতীয় জয় পায় তার কলাবাগান ক্রীড়াচক্র। এটি তাদের দ্বিতীয় জয়। চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে দলটির অধিনায়ক হিসেবেই নতুন যাত্রা শুরু করেন আশরাফুল। কিন্তু টানা ছয় ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পর অধিনায়কত্ব হারান তিনি। এরপর ৮ম ম্যাচে তার খেলাও হয়নি। তবে গতকাল মাঠে ফিরে দলকে এনে দেন ৭ উইকেটের দারুণ এক জয়। এই জয়ে তারা লীগে অবনমন ঠেকানোর রাস্তা খুঁজে পেয়েছে। আর এই ম্যাচে হেরে শেখ জামাল সংশয়ে পড়েছে। ৯ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার ছয় নাম্বারে। সুপার লীগে তাদের খেলতে হলে এখন শেষ দুটি ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ও মোহামেডানের বিপক্ষে জিততে হবে। অন্যদিকে ব্রাদার্সের বিপক্ষে বিকেএসপি-৩ মাঠে ১ রানের নাটকীয় জয়ে সুপার লীগের লড়াইয়ে অনেকটাই নিরাপদ প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ওদিকে ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির বিপক্ষে দারুণ এক জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। এ নিয়ে টানা ৯ জয়ে উড়ছে দলটি। ১৮ পয়েন্ট নিয়ে এখন তালিকার শীর্ষে রয়েছে দলটি। গতকাল তিনটি স্টেডিয়ামেই বৃষ্টির কারণে কর্তিত ওভারে ম্যাচ গুলো মাঠে গড়ায়।
দলকে নিরাপদ রাখতে শক্তিশালী শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের গতকাল জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু টসে জিতে বৃষ্টির কারণে ৪৩ ওভারের ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটসম্যানরা সব এলোমেলো করে দেন। মাত্র ৬১ রানে পাঁচ উইকেট হারায় দলটি। সেখান থেকে রাজিন সালেহের সঙ্গে জিয়াউর রহমান দলকে টানার চেষ্টা করেন। তবে ১৮ রান করে জিয়া আউট হলে ফের বিপদে পড়ে দল। তবে অধিনায়ক রাজিন এবার সঙ্গী করেন বোলার সোহাগ গাজীকে। তাদের ৫১ রানের জুটি দলের মান রক্ষা করে। এরপর গাজী ও আরেক স্পিন বোলার ইলিয়াস সানির ৬৭ রানের জুটি দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়। কিন্তু ব্যাট হাতে এদিন আশরাফুল জ্বলে উঠবেন এমনটা আশা হয়তো কেউই করেননি। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত জাতীয় লিগেই ফিরেছিলেন আশরাফুল। কিন্তু তেমন কিছু করতে পারেননি। তাই খেলতে পারেনি বিসিএলেও। প্রিমিয়ার লীগে ফিরেও ৭ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ৮৮ রান। তবে গতকাল ৮৭ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কা দিয়ে নিজের ইনিংসটি সাজান। মেহরাব হোসেন জুনিয়রের সঙ্গে ১১১ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দলকে নিয়ে গেছেন জয়ের বন্দরে। মেহরাব অপরাজিত ছিলেন ৪৩ রানে। ২১৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬২ রানের ওপেনিং জুটির পর কলাবাগানের দ্বিতীয় উইকেট পড়ে ৮১ রানে। ১০৩ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পর দলকে জয়ের পথ দেখায় আশরাফুল-মেহরাব জুটি। লিস্ট এ ক্রিকেটে এটি আশরাফুলের ২৭তম ফিফটি।
গাজীর টানা ৯
ফতুল্লাহ খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে সকালে ম্যাচ শুরু হতে দেরি হয়। বৃষ্টির কারণে আউট ফিল্ড বেশ ভেজা ছিল। শেষ পর্যন্ত ৪৩ ওভারের ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করতে নামে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। ১৭ রানে প্রথম উইকেট হারিয়ে হোঁচট খেলে দলের হাল ধরেন চলতি লীগে দুটি সেঞ্চুরি করা রবিউল ইসলাম রবি। তবে অন্য পাশ থেকে বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে থাকে শীর্ষে থাকা গাজীর বোলাররা। ৪১ রান করে রবি আউট হলে লড়াই করেছেন অমিত মজুমদার। ফিফটি থেকে মাত্র ১ রান দূরে তিনিও হাল ছাড়েন। দলের আর কোনো ব্যাটসম্যানই ছুঁতে পারেনি ৩০ রানের কোটা। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রানের পুঁজি পায়। একাই ৪টি উইকেট নেন গাজীর পেসার আবু হায়দার রনি। এরপর ব্যাট করতে নেমে মামুলি লক্ষ্যে খুব বেগ পেতে হয়নি গাজীর ব্যাটসম্যানদের। যদিও ১ ও ২২ রানের সময় দুটি উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়েছিল দলটি। বল হাতে নিয়েই খেলাঘরের তরুণ অফস্পিনার শুরুতেই ফিরিয়ে দেন জহুরুল ইসলাম অমিকে। ছয় রান করে তানভিরের দ্বিতীয় শিকার হয়েছিলেন মুমিনুল। তবে সোহরাওয়ার্দী শুভকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ওপেনার এনামুল হক বিজয়। তৃতীয় উইকেটে ৮৬ রানের জুটি গড়েন দু’জন। দেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের ১৫তম ফিফটি তুলে নেয়ার পর তানভিরের তৃতীয় শিকার হন বিজয়। আউট হওয়ার আগে করেন ৭৭ বলে ৬৭ রান। তবে শুভ আর দলকে বিপদে পড়তে দেননি। চতুর্থ উইকেটে ভারতের অলরাউন্ডার পারভেজ রসুলকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন ৬৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। টানা ৯ম জয় নিশ্চিত করে তারা। শুভ ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন রসুল। তানভির নেন ৩১ রানে ৩ উইকেট। লীগে ৯ ম্যাচে তার শিকার এখন ১৮টি উইকেট।
প্রাইম ব্যাংকের নাটকীয় জয়
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের ছুড়ে দেয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যে শেষ ওভারে ব্রাদার্সের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১ রান। ১০ রান হলে টাই হবে, কিন্তু কোনোটিই হলো না। শেষ ৬ বলে ৯ রান তুলতে পারলেন না ধীমান ঘোষ ও নিহাদুজ্জামান। শেষ পর্যন্ত হাতে ২ উইকেট অবশিষ্ট থাকলেও তারা হেরে যায় মাত্র ১ রানে। শেষ ওভারে নাটকীয়। এই জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে প্রাইম ব্যাংকের অবস্থান তৃতীয়। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে তিন ফিফটিতে ভর করে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান করেছিল প্রাইম ব্যাংক। জবাব দিতে নেমে ব্রাদার্সের হয়ে জুনায়েদ সিদ্দিক ও বিদেশি ক্রিকেটার বিসলার ফিফটিতে জয়ের সুভাস পেতে শুরু করে দলটি। তবে এই দুজন আউট হওয়ার পর মাইশুক্কুরের ৩৬ রানের লড়াকু ইনিংস দলকে জয়ের আরো কাছে নিয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত তিনিও আউট হলে দলে আর কেউ জয়ের পথ দেখাতে পারেননি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মন্তব্য
Loading...