ভিশনে উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা, আত্মবিশ্বাসী খালেদা

0 ৩৫২

গত ১০ মে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য ‘ভিশন ২০৩০’ নামে একটি ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তাতে সবাইকে নিয়ে এক ‘রেইনবো নেশন’ বা রঙধনু জাতি গড়ার কথা বলেছেন।

এ নিয়েই কয়েকদিন ধরে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। পক্ষে-বিপক্ষে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করাও গেছে। টেলিভিশন টক শো থেকে চা স্টল সর্বত্রই চলছে এ নিয়ে আলোচনা। আলোচনা-সমালোচনা যাই হোক খালেদার এ ভিশনকে রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

অন্যদিকে খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণার পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। খালেদা জিয়া নিজেও বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। গত কয়েকদিনের তার কার্যক্রম ও বক্তব্য-ভাষণ থেকে এমনটিই লক্ষ্য করা গেছে।

সপ্তাহ না পেরুতেই ভিশন বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ‘ভিশন ২০৩০’ এর আলোকে গত শনিবার ‘বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেনিমার আয়োজন করেছে দলটি। সেখানে বেশ আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে বক্তব্য রাখেন বেগম জিয়া।

ভিশনে সারাদেশে দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপকভাবে উজ্জীবিত।এতে হতাশা কেটেছে। ফলে ভিশনকে ঘিরে আগামীতে আরো কর্মসূচি দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটি। অচিরেই ভিশনের সেক্টর ভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি। এজন্য দল ও দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে হোম শুরু করা হয়েছে। আর এমন প্রস্তুতি রমজানের মধ্যেই শেষ করতে চায় বিএনপি। এ জন্য বেগম জিয়া খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রতিদিনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, রবিবার দিবাগত গভীর রাত পর্যন্ত গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

মাঠ পর্যায়ের নেতারাও বলছেন, চেয়ারপারসনের ভিশন ঘোষণা তাদের নতুন করে উজ্জীবিত করেছে। তারা বলছেন, এখন কেন্দ্র থেকে যেকোনো কর্মসূচি দেয়া হলে বাস্তবায়ন করা জটিল হবে না। নেতাকর্মীরা এতটাই চাঙ্গা হয়েছে যে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করার মতোও মনোবল তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘোষিত ভিশন-২০৩০ দলটির রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। সারাদেশে জনগণের মধ্যে ইতিবাচক জনমত গঠন ছাড়াও দলটি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি সঞ্চয় করার মাধ্যম পেয়েছে বলেই পরিলক্ষিত হয়েছে। এতে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন এক ধরনের উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তেমনি বেগম জিয়াকেও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। এটা খুবই ইতিবাচক দিক।

তিনি আরো বলেন, নতুন ধারার রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের যে স্বপ্ন ভিশনে দেখানো হয়েছে তা এখন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়াই মূল লক্ষ্য হবে। এটা তারা যতটা সক্রিয়ভাবে করতে পারবে ততই তাদের জন্য মঙ্গল হবে।

বুধবার ঢাকায় হোটেল ওয়েস্টিনে খালেদা জিয়া তার দলের তরফ থেকে ‘ভিশন ২০৩০’ নামের এই পরিকল্পনায় বেগম বলেন, বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের অবসান ঘটাতে চায়।‘আমরা চাই সকল মত ও পথকে নিয়ে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি লালন ও পরিপুষ্ট করতে যে সংস্কৃতি বাংলাদেশকে একটি রেইনবো নেশনে (রঙধনু জাতিতে) পরিণত করবে।’

বিএনপি নেত্রী যে রেইনবো নেশন বা ‘রঙধনু জাতির’ কথা বলছেন, তার রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক চরিত্র কি হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে এই রূপকল্প প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ বলেন, ‘এটা হবে একটা অসাম্প্রদায়িক ও ইনক্লুসিভ সোসাইটি। অর্থাৎ সবাইকে নিয়েই এই সমাজ এগিয়ে চলবে। সেখানে সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম জাতিসত্ত্বা, যাদের সংখ্যা হয়তো মাত্র দুশো কি তিনশো, তাদেরও একটা স্থান থাকবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরি বলেন, খালেদা জিয়ার বক্তৃতা শুনে তার মনে হয়েছে বিএনপি যে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে,সেটাই তিনি তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ যদিও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, ইনক্লুসিভ সমাজ গড়তে হলে সবাইকে নিয়েই গড়তে হবে। আমার মনে হচ্ছে খালেদা জিয়া এখানে নতুন কিছু বলছেন। তিনি বিএনপির একটি নতুন ইমেজ গড়তে চাইছেন।’

খালেদার ভিশনে ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতামূলক নতুন ধারার রাজনীতি, সুনীতি, সুশাসন ও সু সরকারের প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার করা হয়েছে।

‘ভিশন-২০৩০’ নামের এ রূপকল্পে ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা, মাথাপিছু আয় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করা, প্রবৃদ্ধি দুই অংকে নেয়া, দেশীয় বিনিয়োগে নানা সুযোগ-সুবিধাসহ আড়াই শতাধিক দফা তুলে ধরছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও বন্দি অবস্থায় অমানবিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো, আটক অবস্থায় মৃত্যুর তদন্ত, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন, ন্যায়পাল গঠন, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা ও তদারকি বাড়ানো, বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো,পুলিশের এএসআই ও কনস্টেবলদের ওভারটাইম ও রেশনের মাধ্যমে খাদ্যপণ্য দেয়ার পাশাপাশি সমমূল্যের অর্থ দেয়াসহ সার্বিক সুবিধা দেয়ার বিষয়গুলো ভিশন ২০৩০ এ ঘোষণা করা হয়েছে।

অর্থাৎ একটি উন্নত জাতি গঠনে যত সব পরিকল্পনার দরকার সবকিছুই এই ভিশনে আছে বলে বিএনপি ঘরনার বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের দাবি। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা অনুযায়ী বিএনপি কাজ করলে সত্যিই দেশের সার্বিক চিত্র পাল্টে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মন্তব্য
Loading...