লাখ টাকার মাহফিল, হেলিকপ্টারে আসলেন হুজুর!

0 ৬৫৮

নাটেরের সিংড়া উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের শত শত মানুষ অপেক্ষা করছে। তাদের দৃষ্টি আকাশের দিকে। এ অপেক্ষার কারণ স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত ইসলামী জলসায় প্রধান বক্তা হিসেবে যোগ দিবেন ঢাকা থেকে আগত একজন ইসলামী চিন্তাবিদ। তবে অপেক্ষার কারণ এটি নয়, তিনি আসবেন হেলিকপ্টারে চড়ে। শালমারা গ্রামের মানুষজন অধীর আগ্রহে হেলিকপ্টারসহ সেই চিন্তাবিদ বক্তাকে দেখার জন্য।

সকলের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে শালমারা গোরস্থান সংলগ্ন ফাকা জায়গাটিতে অবতরণ করল ওই চিন্তাবিদকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি। প্রথমে নামতে দেখা গেল অস্ত্র হাতে একজন নিরাপত্তারক্ষীকে। এরপর হেলিকপ্টারটি থামার পর ভেতর থেকে নামলেন পীরে কেবলা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী জৈনপুরী সাহেব। তিনি নেমেই সবাইকে সালাম জানিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। এরপর সকলের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেন সরাসরি শালমারা দাখিল মাদ্রাসায় চলে যান।

প্রত্যন্ত অজোঁ পাড়াগাঁয়ে জৈনপুরী সাহেবের হেলিকাপ্টার যোগে আসার ছবি ততক্ষণে ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। জৈনপুরী সাহেবকে অভ্যর্থনা জানাতে ছুটে আসেন, শালমারা দাখিল মাদ্রাসার সুপার শহিদুল ইসলাম, সভাপতি মোসলেম উদ্দীন, স্থানীয় ইউপি মেম্বার মকলেসসহ জালসা কমিটির লোকজন। হুজুরকে নামিয়ে দিয়ে ঢাকা ফিরে গেছে হেলিকপ্টারটি।
জৈনপুরী সাহেবকে দেখতে আসা স্থানীয়দের দাবী, এতদিন এমপি মন্ত্রীরা কিংবা রাজনৈতিক নেতারা হেলিকপ্টারে করে বিভিন্ন এলাকায় সফর করতেন। আর এখন এ ধারায় নতুন সংযোজন হয়েছেন পীর ও বড় বড় মাওলানারা।

জানা গেছে, জালসার প্রধান অতিথী হিসেবে তিনি সোমবার রাত ২টার পর থেকে বক্তৃতা করবেন জৈনপুরী সাহেব। ভোর পর্যন্ত বক্তৃতা করে সকাল ৭ টার দিকে পুনরায় হেলিকপ্টারে ঢাকা চলে যাবেন তিনি। তবে এ বক্তৃতার জন্য তিনি নিয়ে যাবেন মোটা অংকের টাকা।
স্থানীয়দের কেউ কেউ জলসার নামে জৈনপুরী সাহেবের এ আগমনকে স্রেফ ধর্মব্যবসা বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেন, সাধারন মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে যারা এ ব্যবসায়ে নেমেছে, তারা ইসলামের শত্রু।

জালসার ব্যাপারে জানতে মোবাইল ফোনে কমিটির একজন সদস্যের সাথে যোগাযোত করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, জৈনপুরী হুজুর ওয়াজ করার বিনিময়ে নেবেন ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। সকাল হলে তাকে এ টাকা পরিশোধ করবে জালসা কমিটি। তবে মোটা অংকের টাকা কোন উৎস্য থেকে দেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।

জলসার একজন বক্তার এমন বিলাসিতার পেছনে মোটা অংকের অর্থ ব্যয়ের খবরে রীতিমত বিস্মিত সিংড়ার আলেম সমাজ। বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ রেজাউল করিম বলেন, মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেয়াই যদি এমন আয়োজনের উদ্দ্যেশ্য হয়ে থাকে, তবে সেখানে এমন বিলাসিতা কেন? পবিত্র কুরআন মাজীদে সরাসরি বিলাসিতা ও অপচয় পরিহারের নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহপাক। আর দ্বীনের দাওয়াতকে উছিলা করে অর্থ আদায় ভন্ডামী ছাড়া কিছুই না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মন্তব্য
Loading...