সিএনজি চালককে পেটালেন সাবেক মন্ত্রী

0 ৬১৯

নিউজ ডেস্ক:: সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আলহাজ আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মোতালেব হোসেন (৩৫) নামে এক সিএনজি চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের সমেশপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

সিএনজি চালক মোতালেব সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চর হরিপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ শেখের ছেলে।

সিএনজি চালক মোতালেব অভিযোগ করে বলেন, গত মঙ্গলবার বিকেলে যাত্রী নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে বেলকুচি যাচ্ছিলাম। পথে কদমতলী ইটভাটার কাছে আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের গাড়িসহ আরও কয়েকটি গাড়ি দাঁড় করানো ছিল। আমি তাদের পার করে সামনে তামাই নাগগাতী পৌঁছালে দেখি কয়েকজন লাঠিসোটা নিয়ে কয়েকটি সিএনজি দাঁড় করিয়ে রেখেছে। এ সময় তারা আমার গাড়ি দেখে এগিয়ে আসে। আমি মনে করেছিলাম গত কয়েকদিন ধরে সিএনজি মালিকদের মধ্যে সমস্যা চলছিল হয়তো এ কারণেই সিএনজি ভাঙচুর করা হচ্ছে। তাই দ্রুত স্থান ত্যাগ করি।

এ সময় পথের আমবাড়িয়াতে জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গাজী আব্দুল হামিদ আকন্দ রাস্তায় আমার গাড়ি গতিরোধ করার চেষ্টা করেন। আমি তাদের পাশ কাটিয়ে গেলে তারা কয়েকটি গাড়ি নিয়ে আমার পিছু নেয়। পরে সমেশপুরে ওয়াবদার ঢালে আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের গাড়ি সামনে দাঁড়িয়ে আমার গতিরোধ করে। এ সময় আব্দুল লতিফ বিশ্বাস গাড়ি থেকে নেমে আমাকে মারধর করেন। পরে তার লোকজনরাও আমাকে মারধর করেন। আমি তার পা ধরে ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পায়নি।

এ বিষয়ে জেলা অটো টেম্পু ও সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ জানান, আমি খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি পরিস্থিতি বেশ উত্তজনাকর। পরে আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে মোতালেবকে নিয়ে আসি।

তিনি আরও বলেন, আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের গাড়ির লুকিং গ্লাস ভাঙার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ঘটনাস্থলে থাকার কারণে মোতালেবের তেমন কিছু হয়নি।

ওই সিএনজির যাত্রী উপজেলার নিশিবয়ড়া গ্রামের ছাইফুল ইসলাম বাবু, তামাই কলিয়াপাড়া গ্রামের ইসলাম ও তামাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের মাকসুদ রহমান জানান, বেলকুচি থেকে সিরাজগঞ্জের দিকে সিএনজি নিয়ে যাচ্ছিলাম। সমেশপুর পৌঁছামাত্র সিএনজিটির গতিরোধ করা হয়। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে এসে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস সিএনজি চালককে মারধর করেন। চালক তার পা ধরে ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পায়নি।

এ ব্যাপারে সাবেক মন্ত্রী ও সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল লতিফ বিশ্বাস বলেন, বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর জন্য তাকে (সিএনজি চালক) শাসন করেছি। তার গায়ে কেউ হাত দেয়নি।

মন্তব্য
Loading...