রাজশাহীতে চড়ই পাখি বাচাঁতে ফায়ার সার্ভিসের পুরো এক ইউনিট

0 ৪০৩

কোনো একদিন রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি এলাকায় বৈদ্যুতিক তারে একটি ঘুড়ি আটকে গিয়েছিল। সেই ঘুড়ির সুতাটি ঝুলছিলই। সে সুতায় আটকে যায় ছোট্ট একটা চড়ই পাখি। বাঁদুরের মতো উল্টো হয়ে ঝুলে ডানা ঝাপটে যাচ্ছিল চড়ইটি। তার এই ডানা ঝাপটানো যেন প্রাণে বাঁচানোর আকুতি।

মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় সংবাদকর্মী সৌরভ হাবিবের। প্রথমে তিনি পাখিটিকে সুতা থেকে ছাড়ানোর কথা ভাবেন। কিন্তু আশপাশে লম্বা কোনো বাঁশ খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। তাই কিছুটা সংশয় নিয়েই ফোন করেন ফায়ার সার্ভিসে। ভাবছিলেন, ছোট্ট একটা পাখির প্রাণ বাঁচাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসবেন কিনা।

কিন্তু ফোন পাওয়ার মিনিট দশেকের মধ্যেই ঘটনাস্থলে হাজির ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি। সৌরভ হাবিব ভাবেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হয়তো চড়ই পাখির কথা বুঝতে পারেননি। তাই দুটি গাড়ি এনেছেন। তাই ঘটনাস্থল থেকেও তিনি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জানান আটকে থাকা চড়ই পাখির কথা।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে বলেন, চড়ই পাখির কথা জানতে পেরেই তারা এসেছেন। এরপর অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গেই লম্বা মই দিয়ে উঠে বৈদ্যুতিক তার থেকে সুতাটি কেটে দেন তারা। সঙ্গে সঙ্গে মনের আনন্দে কিচির-মিচির শব্দ করে উড়ে যায় পাখিটি।

এর আগে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি দেখে থমকে দাঁড়ান পথচারীরা। তারা ভাবেন, কোথাও হয়তো আগুন লেগেছে। কিন্তু একটি চড়ই পাখি উদ্ধারের অভিযান জানতে পেরে তাদের কেউ কেউ তাচ্ছিল্য করেন। কেউ কেউ বললেন, ‘পাখি উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিস ডাকতে হবে।’ আবার মুক্ত আকাশে চড়ই পাখিটিকে ডানা মেলতে দেখে কেউ কেউ বললেন, ‘এটা একটা মহৎ কাজ হলো।’

সাংবাদিক সৌরভ হাবিব বলেন, আমি তো ভয়ে ভয়ে ফোন দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, তারাও তাচ্ছিল্য করবেন কিনা। কিন্তু তারা অবহেলা করেননি। অথচ একটা সময় ছিল যখন মানুষ মরতে থাকলেও এতো দ্রুত ফায়ার সার্ভিস আসতো না। এখন তারা খুব আন্তরিক। পাখিটিকে মুক্ত করে তারা এটি প্রমাণ করেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফরহাদ হোসেন জানান, পাখির একটি পায়ে সুতা আটকে ছিল। তাদের দুটি ইউনিট পাখিটি মুক্ত করার অভিযানে নেমেছিল। স্টেশন অফিসার মেহেরুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৫ জন সদস্য একযোগে কাজ করে পাখিটিকে মুক্ত করেছে।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিস এখন দ্য লাইফ সেভিং ফোর্স। শুধু মানুষই নয়, প্রত্যেকটা প্রাণেরই মূল্য আছে। প্রতিটি প্রাণ রক্ষা আমাদের কর্তব্যের ভেতরেই পড়ে। বিষয়টি এভাবে মাথায় নিয়েই আমরা কাজ করি। ছোট্ট চড়ই পাখিটিকে মুক্ত করতে পেরে আমাদেরও অত্যন্ত ভালো লাগছে।

পাখির প্রতি সবার এমন ভালোবাসায় মুগ্ধ বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সহ-সভাপতি অনু তারেক। তিনি বললেন, কেউ পাখি মারলে সেখানে পুলিশ ডাকা হলে লোকজন হাসাহাসি করে। বলে, পাখি মরলে কী হবে! এমন একটা সময় পাখির প্রাণ রক্ষায় ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করা এবং ফায়ার সার্ভিসের এই ভূমিকা সবার জন্য অনুকরণীয়। এটা খুবই দুর্দান্ত একটা খবর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মন্তব্য
Loading...