অপেক্ষাতেই আটকে আছে বিএনপি

0 ৫৪৯

নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে বিএনপি। এই সময়ের মধ্যে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তির বিষয়টি দীর্ঘায়িত হলেও কৌশলগত অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে দলটির। সরকারবিরোধী এই দলটির নেতারা বলছেন, দলীয় কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা ও নেতাকর্মী গ্রেফতার অব্যাহত থাকলেও এই কৌশলগত অবস্থান থেকে সরবে না বিএনপি। অন্তত জুন শেষ হওয়ার আগে কোনও ধরনের কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছে না দলটি।

বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার মতো ঘটনা বিএনপি করবে না। ফলে, যতটা সম্ভব দলীয় কর্মসূচি স্থির রেখে শান্তিপূর্ণভাবেই আরও তিন-চার মাস পার করা হবে। এরপরও সরকারের অবস্থানে নমনীয়তা না এলে সর্বাত্মক কর্মসূচিতে যাবে বিএনপি।

দলটির দায়িত্বশীল নেতারা মনে করছেন, খালেদা জিয়া জেলে থাকাই সরকারের মধ্যেই বেশি অস্বস্তি বিরাজ করছে। তার মতো জনপ্রিয়নেতাকে কারাগারে রেখে দিনে-দিনে জনপ্রিয়তার মাত্রা ও সাধারণ মানুষের সহানুভূতি বাড়ছে। যা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকলেও জনপ্রিয়তার বিস্ফোরণ ঘটবে বলে মনে করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আগামী কয়েক মাসে সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় বিএনপিকেও এ নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আলোচনাও করেছেন প্রাথমিকভাবে। বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের তিন মাস আগে সব দাবি-দাওয়া নিয়ে হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচিগুলো ডাকতে পারেন নেতারা। আপাতত, যেভাবে চলছে, সেদিকেই মনোযোগ রাখছে বিএনপি। খুলনা, চট্টগ্রামের মতো দেশের অন্য বড় শহরগুলোয়ও সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত আছে। ধীরে-ধীরে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

এই বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা জুন-জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। এই সময়ে যেভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছে, সেভাবেই চলবে। এরপর কর্মসূচির ধরন নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেবে। আমাদের দেশে প্রচলিত যে কর্মসূচিগুলো দেওয়া হয়, হরতাল, অবরোধ—এ ধরনের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবো।’

বিএনপির আরেকজন ভাইস চেয়ারম্যানের মতে, ‘যেভাবে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, তা ২০১৩ সালের মতো। ইতোমধ্যে ছাত্রদলনেতা জাকির হোসেনকে রিমান্ডে নিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।’

বিএনপির নেতা এই নেতার ভাষ্য, ‘সরকার নেতাকর্মীদের মনে আতঙ্ক ছড়াতে চাইছে, কিন্তু নেতাকর্মীরা বিগত দিনের চেয়েও ঐক্যবদ্ধ বেশি। আতঙ্ক বা দু-একজন নেতাকর্মীকে মেরে ফেললেই আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে না।’

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন দাবি করেন, ‘সরকারই বরং বেকায়দায় আছে। চেয়ারপারসনের জামিন দীর্ঘায়িত করার মধ্য দিয়ে এটাই পরিষ্কার, বিচার বিভাগে সরকারের হস্থক্ষেপ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশ, সারা বিশ্ব, সবাই দেখছে, এখানে কী ঘটছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলছে, চলবে। সরকার তো এখন ভয় পাচ্ছে, নেত্রীকে ছাড়া হলে এখন তোলপাড় হয়ে যাবে। আবার কারাগারে রেখেও সুবিধা করতে পারেনি। দল ও দলের নেতাকর্মী সবাই ঐক্যবদ্ধ।’

বিএনপির সূত্রগুলো জানায়, ইতোমধ্যে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হতাহত ও ভুক্তভোগী নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। লন্ডন থেকেও বার্তা এসেছে, নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে।’

ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী বলেন, ‘ওয়ার্ড, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা, মহানগর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত—সব পর্যায়ের ছাত্রদল নেতাকর্মীদের আইনি ও চিকিৎসা সুবিধাসহ আপদকালীন সময়ে যথাসম্ভব সাহায্য সহযোগিতা দেওয়া হবে। দলের শীর্ষপর্যায় থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।’

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেভাবে সিদ্ধান্ত আছে, সেভাবেই চলবে। দলের পরবর্তী করণীয় ও কৌশল নির্ধারণ হবে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে।’ তবে তিনি মনে করেন, ‘খালেদা জিয়ার জেলে থাকা দীর্ঘায়িত হবে কিনা, এটা রবিবার স্পষ্ট হবে। আপাত ওই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

মন্তব্য
Loading...