ধন্যবাদ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ……..

0 ৪৮১

নিদাহাস ট্রফির প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। যে দল জিতবে সেই দলই খেলবে ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে। ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। টস হেরে ডু অর ডাই ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভার খেলে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান করে হাথুরুর শ্রীলঙ্কা। ফাইনালে উঠতে হলে বাংলাদেশের করতে হবে ১৬০ রান।

এই লক্ষ্য তারা করেতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারের আগে ২ উইকেতে জয় নিয়ে মাঠ ছারে টিম-বাংলাদেশ।

নিদাহাস ট্রফির দ্বিতীয় ফাইনালিস্ট খোঁজার ম্যাচটিকে রাঙালেন বিভিন্ন রঙে, বিভিন্ন ভঙ্গিতে!

টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাকিব আল হাসান তার প্রত্যাবর্তন ঘটালেন নামের প্রতি সুবিচার করেই। আঁটসাঁট প্রথম ওভারের পর নিজের দ্বিতীয় ও ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই তার শিকার গুনাথিলাকা! পরের ওভারে ফর্মে থাকা কুশাল মেন্ডিস মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হয়ে ফিরলেন সাজঘরে। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই স্বাগতিকদের ধাক্কা।

দুই ওপেনারকে হারানোর পর ছন্দে ফেরা চাট্টিখানি কথা ছিল না। সাথে বাংলাদেশের সুস্বাদু মুহূর্তে ফোঁড়ন হয়ে কাজ করল ষষ্ঠ ওভারে উপুল থারাঙ্গা ও দাসুন শানাকা এবং নবম ওভারে জীবন মেন্ডিসের বিদায়। স্কোর-বোর্ডে ৪১ রান যোগ করা শ্রীলঙ্কার অর্ধেক উইকেট তখন বাংলাদেশের সাকিব-মুস্তাফিজ-মিরাজের দখলে।

তবে স্বাগতিক দলের একটা দায়বদ্ধতা থাকে, দর্শকদের প্রতি, মাঠের প্রতি। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই হয়ত, হুট করে বিধ্বংসী রূপে আবির্ভূত হয়ে ম্যাচের মোড়ই পাল্টে দিলেন ওয়ান ডাউনে নেমে এতক্ষণ অন্য প্রান্তে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়া দেখা কুশাল পেরেরা ও সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে নামা থিসারা পেরেরা। দুই পেরেরা মিলে এরপর যা করলেন, তাকে তুলনা করা যেতে পারে বাংলাদেশি বোলারদের উপর স্টিম রোলার চালনার সাথে।

ইনিংসের অর্ধেক পর্যন্ত যে বোলিংকে আখ্যা দেওয়া হচ্ছিল ‘ক্ষুরধার’, দুজনের ব্যাটিং তাণ্ডবে সেটি মুহূর্তেই হয়ে গেল ‘ম্যাড়মেড়ে’। তাতে অবশ্য বাংলাদেশি বোলারদের দায়ও কম নয়। ইনজুরি থেকে মাত্র ফেরা সাকিব অজানা কারণে নিজের দ্বিতীয় ওভারের পর বলই নেননি হাতে। রুবেল হোসেন রান বিলি করলেন দেদারসে, তার অনুসারী হলেন মুস্তাফিজুর রহমানও। লঙ্কানদের ‘ভিন্ন স্বাদের রেসিপি’ দিতে আসা সৌম্য সরকারও খরুচে বোলারের তকমা নিয়ে দলকে এনে দিলেন অপ্রত্যাশিত চাপ। শেষপর্যন্ত অবশ্য দুই পেরেরাই ফিরেছেন সাজঘরে। তবে ততক্ষণে দলকে এনে দিয়েছেন লড়াকু এক পুঁজি। সাতটি চার ও একটি ছক্কার সহায়তায় ৪০ বলে কুশাল পেরেরার করা ৬১ এবং তিনটি চার ও তিনটি ছক্কার সহায়তায় থিসারা পেরেরার ৩৭ বলে ৫৮ রানের দুটি মারকুটে ইনিংস দলকে থামায় ১৫৯ রানে। প্রথম ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারানো দল শেষ ১০ ওভারে হারায় মাত্র ২টি উইকেট, তাও শেষ দুই ওভারে। ষষ্ঠ উইকেটে শ্রীলঙ্কার ৯৭ রানের পার্টনারশিপ টাইগারদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য ছিল যথেষ্ট।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারেই তাণ্ডবের আভাস দিলেন তামিম। তবে সেই তাণ্ডব বাস্তব রূপ নেওয়ার আগেই তামিমের সঙ্গী লিটন দাস উইকেট রীতিমতো বিলিয়েই দিলেন। অফ স্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বলকে প্রয়োজন ছাড়াই স্পর্শ করে ক্যাচ তুলে দিলেন ৩০ গজের ভেতরে। তার বিদায়ের পর সবাইকে অবাক করে দিয়ে ক্রিজে আসেন সাব্বির রহমান, যিনি পুরো সিরিজ জুড়ে পরিচয় দিয়েছেন ব্যর্থতার। অথচ সেই সাব্বিরও ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়ে যখন ফিরলেন, নামের পাশে মাত্র ১৩টি রান।

ম্যাচ তখন হাসছে শ্রীলঙ্কার দিকে তাকিয়ে। তবে সেই হাসিটাকে নিজেদের দিকে ফিরিয়ে আনলেন তামিম ইকবাল এবং মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় উইকেটে ৬৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে সফরকারীদের ম্যাচে ফেরান দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান।

তবে দল আবারও খেই হারায় এই জুটি ভাঙার পর। ২৫ বলে ২৮ রান করা মুশফিক প্যাভিলিয়নের পথ ধরার পর তামিমও একই পথ ধরেন, তবে তার আগে তুলে নেন ফিফটি। ১১ বল মোকাবেলা সৌম্য একশরও নিচে স্ট্রাইক রেট নিয়ে বিলিয়ে দেন নিজেকে। এতে আবারও চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

ঐ মুহূর্তে পুরো বাংলাদেশ তাকিয়ে ছিল অধিনায়কত্বে ফেরা সাকিব আল হাসান ও এতদিন দলকে নেতৃত্ব দেওয়া মাহমুদউল্লাহ্‌ রিয়াদের দিকে। লঙ্কান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর গ্যালারি থেকে শ্রীলঙ্কার জন্য আসা সমর্থনের পাশাপাশি কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় প্রত্যাশার চাপও। সেই চাপে পিষ্ট হয়েই দীর্ঘদিন পর ব্যাট হাতে নেয়া সাকিব সাজঘরে কোনো বাউন্ডারি না হাঁকিয়েই।

সাকিবের বিদায়ের পরপরই মেহেদি হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান ও আরিফুল হককে হারিয়ে ম্যাচ থেকে রীতিমতো ছিটকেই পড়ে বাংলাদেশ। শেষ ওভারে টাইগারদের প্রয়োজন ছিল ১২ রান, যাকে ‘অসম্ভব’ ভেবে গ্যালারিতে থাকা লঙ্কান দর্শকরা রীতিমতো শুরু করেছিলেন জয়ের উৎসব। তবে শেষদিকে এসে ম্যাsচের পুরো চিত্র পাল্টে দেন রিয়াদ। একাই শেষ দুই বলে এক চার ও এক ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়ে দিলেন।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত এই জয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে উত্থিত হয়েছে বাংলাদেশ, যেখানে টাইগারদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মন্তব্য
Loading...