Sylhet Express

বিলকিস ও পিয়াসের স্বজনেরা নেপালে……..

0 ১,১৯৫

ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত পিয়াস রায় ও বিলকিস আরা মিতুর স্বজনেরা নেপালে পৌঁছেছেন। এর আগে তাদের নেপালে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল কাঠমান্ডুর বাংলাদেশের দূতাবাস।

পিয়াস রায়ের বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায় নেপালে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন পিয়াসের ভগ্নিপতি হিমাদ্রি সরকার। আর কাঠমান্ডুতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস জানিয়েছে, বিলকিসের ভাই মাসুদ ও স্বামী স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে নেপাল পৌঁছান।
হিমাদ্রি সরকার জানান, সরকারের সহযোগিতায় মাত্র একদিনের মধ্যে পাসপোর্টের ব্যবস্থা করে শুক্রবার বিকেলে ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনায় তিনি নেপাল গিয়েছেন। তবে নেপালে সুখেন্দু বিকাশ রায়ের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশি দূতাবাস।

নেপালের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস রাতে (শুক্রবার) জানান, বিলকিসের স্বজনদের সঙ্গে তাদের দেখা হয়েছে। তারা খোঁজখবর রাখছেন। এ দিন সকাল সাড়ে ১১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (বিজি ৭১) কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তারা।
তবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, এই একই ফ্লাইটে নেপাল গিয়েছেন দুর্ঘটনায় নিহত পিয়াস রায়ের বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায়। নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বিলকিসের স্বজনদের সঙ্গে দেখা হলেও পিয়াস রায়ের কোনও স্বজনের সঙ্গে আমাদের এখনও দেখা হয়নি।’
পিয়াস রায়ের বাবার আকুতি ছিল তার ছেলের লাশ দেখার। পাসপোর্ট না থাকার কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ নেপাল যেতে পারেনি। দুর্ঘটনার দুদিন পর বুধবার (১৪ মার্চ) সকালে বরিশাল থেকে ছুটে আসেন ঢাকায় ইউএস-বাংলা অফিসে। তিনি তখন বলেন, ‘নেপালে দুর্ঘটনার স্বজনদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। আমরা যোগাযোগ করেছিলাম ইউএস-বাংলার সঙ্গে। কিন্তু পাসপোর্টের মেয়াদ না থাকায় আমি যেতে পারিনি।’
পিয়াস রায়ের বাবা ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার পাসপোর্ট তৈরি করার উদ্যোগ নেয় তারা। পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ। ইউএস-বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ইউএস-বাংলার কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সহায়তা করবে।
পিয়াস গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত পিয়াসের গ্রামের বাড়ি বরিশালের নতুন বাজার এলাকায়। তারা দুই ভাইবোন। তার বোনও মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী।

বিলকিস আরা মিতুর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর বিসি-০০৪৯০৩০। নিউ ইয়র্কের হাডসনে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন তিনি। কয়েক দিন আগে অসুস্থ মাকে দেখতে তিনি বাংলাদেশে আসেন। নেপালে বেড়াতে যাচ্ছিলেন তিনি।

মিতুর স্বামী আজিজুল হক ফায়ারম্যানস অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য স্টেট অব নিউ ইয়র্কের স্টাফ নার্স। ২০১৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। পরের বছর ডিসেম্বরে আজিজুল হকের সঙ্গে নিউ ইয়র্কে যান। গ্রিন কার্ডধারী মিতু নিউ ইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ফিন্যান্স নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহী।

মিতুর ভাসুর মো. সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়লখালী উপজেলার পশ্চিম গুননন্দি গ্রামে। আমি একটি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করি। আমরা তিন ভাই। আজিজুল হক আমার ছোট ভাই। ২০১৪ সালে মিতুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ২০১৫ সালে মিতু আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক চলে যায়। কিছুদিন আগে মিতু তার মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে দেশে আসে। এরপর নেপালে যায়। আমরা গত মঙ্গলবার তার মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে জানতে পারি।’

মন্তব্য
Loading...