নগরী থেকে ছিনতাইকারী মামুন গ্রেফতার

0 ১,০৪১

নিজস্ব প্রতিবেদক:: গত ১৩ই মার্চ রাত আনুমানিক ১০:১৫ মিনিটের সময় গ্রুপিং কোন্দলের জেরে অপর গ্রুপের কর্মীদের প্রাণনাশের লক্ষ্যে উপশহরস্থ তেররতন বাজারের ভেতর যুবলীগের জাকিরুল আলম জাকিরের অনুসারী কক্টেল ছাব্বিরের নির্দেশে অস্ত্রধারী মামুন সহ ২৫-২৬ জনের মুখোশ পরিহিত একদল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বন্ধুক, রামদা, এসএস পাইপ সহ প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া দেয়।

এ সময় তেররতন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলে এলাকার শান্তি ও শৃঙখলা রক্ষার্থে মহানগর ছাত্রলীগ নেতা এইচ আর সুমনের অনুসারী মীন্নত আলী বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে এলে তাকে রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর ভাবে অহত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় অচেতন অবস্থায় যুবলীগ কর্মী মীন্নত আলীকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তারপর কর্মরত চিকিৎসকের পরামর্শে মীন্নত আলীকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। মামলার ব্যাপারে গুরুতর আহত মীন্নতের বোনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য মীন্নতকে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছি এবং মীন্নত নিজে বাদী হয়ে তার কব্জী কর্তনকারী জাকিরুল আলম জাকির ও কক্টেল ছাব্বিরকে প্রধান আসামী করে মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার (১৬ই মার্চ) শাহপরান (রঃ) থানায় মামলা নং-১২ দায়ের করেছে। মামলার ৩নং আসামী আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ছিনতাইকারী মামুনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহপরাণ থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান-মীন্নতের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ ৩নং আসামী মামুনকে গত শনিবার (১৭ই মার্চ) দুপুরে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা ও রয়েছে।

অন্যদিকে এই ধরণরে নজিরবিহীন ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তেররতন এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মুরব্বীগন বলেন, ছাত্রদলের ক্যাডার কক্টেল ছাব্বির বর্তমানে ছাত্রলীগে যোগদান করার পর থেকে নীরিহ মানুষদের উপর হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা ও নির্যাতন করে আসছে এমনকি বিভিন্ন কায়দায় নিজ প্রয়োজনে খায়ের মাষ্টারের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে (ছিনতাইকারী মামুন)কে পেশাদার সন্ত্রাসী হিসাবে ব্যাবহার করছে। তারা আরো বলেন, কোনো দুষ্ট লোকের অপকর্মের জন্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া সংঘঠনের ক্ষতি হবে তা আমরা মেনে নিতে পারিনা, সংঘঠনের মানসম্মান রক্ষার্থে যখন যা করার প্রয়োজন তখন তা করতে আমরা র্সবদা প্রস্তুত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেররতন এলাকার আরো কয়েক জন লোক বলেন, হামলার সময় মামুনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল এবং এলোপাতাড়ি চার-পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও করেছিল। ঘটনার সময় মামুনের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের যোগানদাতার নাম জানতে চাইলে সবাই এক সূরে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী কক্টেল ছাব্বিরের নাম বলেন।

সূত্র জানায়- শাহপরাণ (রঃ) থানার উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রাজীব কুমার রায় উপশহরস্থ আশপাশ এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। যার কারণে প্রাই সময় উপশহর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ইদানিং বেশি-ই দেখা যাচ্ছে। ফাঁড়ির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় জুয়া খেলা চলে তাকে মাসোহারা দিয়ে। গত ১৩ই মার্চ তেররতন এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে রাজীব রায়কে একাধিক বার ফোন করার পরও তিনি ঘটনা স্থলে উপস্থিত হননি স্থানীয়রা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মন্তব্য
Loading...