নাশকতার মামলা | খালেদা জিয়ার জামিন বহাল

0 ২৭৭

কুমিল্লায় নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের আদেশের ওপর চেম্বার আদালত যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন তা তুলে নিয়েছে আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) নিষ্পত্তি করে গতকাল এ আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারপতির আপিল বিভাগ।

একই সঙ্গে আদেশে এই মামলায় খালেদা জিয়ার করা জামিন আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি আপিল বিভাগের এই আদেশের অনুলিপি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্টে নিষ্পত্তি করার কথা বলা হয়েছে। এর আগে সোমবার এ সংক্রান্ত শুনানি শেষে মঙ্গলবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রল বোমা মেরে হত্যা ও নাশকতার দুটি মামলায় গত ২৮শে মে এক আদেশে খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। পরে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। চেম্বার আদালত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। গত ৩১শে মে এক আদেশে দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন ২৪শে জুন পর্যন্ত স্থগিত করে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়েরের নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। হত্যার অভিযোগে করা অন্য একটি মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু অপিলের শুনানি রোববার শেষ হয়। পরে এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২রা জুলাই দিন ধার্য রেখেছেন আপিল বিভাগ।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশেষ ক্ষমতা আইনের এই মামলায় জামিনের জন্য আমরা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছিলাম। সেখানে আবেদনটি নাকচ হওয়ার পর জজ আদালতে গিয়েছিলাম। কিন্তু জজ আদালত ইচ্ছাকৃতভাবে মামলাটি দীর্ঘায়িত করার জন্য এবং খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করার জন্য দীর্ঘ সময় দেয়। আমরা জামিনের জন্য ২৪শে এপ্রিল আবেদন করেছিলাম, জজ আদালত ?শুনানির জন্য ৭ই জুলাই নির্ধারণ করেন। আমরা বলেছিলাম খালেদা জিয়া অসুস্থ, বয়স্ক একজন মহিলা। তাই শুনানির সময় এগিয়ে আনার জন্য আমরা আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সে আবেদনে আদালত সাড়া দেয়নি। খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘এক্ষেত্রে কনকারেন্ট জুরিসডিকশন (এখতিয়ার) আছে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করার। সে অনুযায়ী আমরা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলাম। হাইকোর্ট আমাদের জামিন দিয়েছিল।

আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছে এবং আবেদনটি গ্রহণযোগ্য কি না তা সাত দিনের মধ্যে পরীক্ষা করার জন্য আদেশ দিয়েছেন।’ এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, স্থগিতাদেশ উঠলেও জামিন বহাল হয়নি, কারণ আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা হাইকোর্টকে পরীক্ষা করতে বলেছে। তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগ যদি হাইকোর্টের আদেশটি বহাল রাখতো তাহলে তো আমাদের আবেদনটি খারিজ হতো। হাইকোর্টে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে স্থগিতাদেশটি বাতিল করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন করেছিলেন। সেখানে আবেদনটি বিচারাধীন রেখেই তিনি (খালেদা জিয়া) হাইকোর্টে এসেছিলেন। হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছিল।

এর বিরুদ্ধে আমরা আপিল বিভাগে গিয়েছিলাম। আপিল বিভাগ মামলাটি পুনরায় হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়েছেন এই নির্দেশনা দিয়ে যে, এই মামলাটিতে জামিন আবেদন রক্ষণীয় (গ্রহণযোগ্য) কি না সেটা বিবেচনা করার জন্য।’ তিনি বলেন, ‘এ মামলায় নিম্ন আদালতে আবেদন বিচারাধীন রেখে উনি (খালেদা জিয়া) হাইকোর্টে আসতে পারেন কি না- সেটি বিবেচনা করা হবে। তারপর জামিনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

মন্তব্য
Loading...