ধানের শীষের এজেন্ট কার্ড ছিনতাই!

0 ১,১৭৩

সকাল ১০টায় কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছিলেন শিউলি আক্তার। তার ভোটার নম্বর ০২৮৩। বুথে ঢুকে জানতে পারেন তার ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে। শিউলি আক্তারের এ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার লতিফুর রহমান বলেন, তিনি সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে ঘটনাটি শুনেছেন। এ ব্যাপারে তার কিছুই করার নেই। কাজী আজিম উদ্দিন কলেজে মোট তিনটি কেন্দ্র।

এর মধ্যে দুটি কেন্দ্রে দুপুরের পর ধানের শীষের এজেন্ট পাওয়া যায়নি। সকালে যারা এসেছিল তাদের দুপুরের আগেই চলে যেতে বলা হয়েছে বলে কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করা ধানের শীষের সমর্থকরা জানান। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বেশকিছু কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট ছিল না। ভোট শুরুর দিকে কিছু কেন্দ্রে এজেন্ট ছিল। তবে সকাল দশটার পর তাদের বের করে দেয়া হয়। ধানের শীষের এজেন্টদের কার্ড ছিনিয়ে নিয়েছেন নৌকা সমর্থকরা। কেন্দ্রের বাইরেও বিএনপির নেতাকর্মীদের ভিড়তে দেয়া হয়নি।

কেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের মহড়া ছিল দিনভর। সকাল সাড়ে দশটার দিকে নীলের পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের ভেতরে বিএনপির কোনো এজেন্ট নেই। বাইরে ধানের শীষের ব্যাজ পরা কয়েকজনকে দেখা যায়। তারা অভিযোগ করেন, ভোট শুরুর পর পুলিশ এসে তাদের চলে যেতে বলেছে। বিএনপির এজেন্টশূন্য ওই কেন্দ্রে ভোটের হারও ছিল অস্বাভাবিক। সেখানে প্রথম এক ঘণ্টায় ছয়টি বুথে প্রায় ৭০০ ভোট পড়েছে। ওই কেন্দ্রের মোট ভোটার ২৩২৭। কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার সুমন কুমার বসাক দাবি করেন, ধানের শীষের এজেন্টরা এসেছিল।

তবে তারা কেন চলে গেলেন তা তিনি জানেন না। আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের নিজ কেন্দ্র কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ধানের শীষের কোনো এজেন্ট ছিল না। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার তানজুরুল ইসলামের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, বিএনপির কোনো এজেন্ট আসেনি। এজেন্ট ঢুকতে পারছে না এমন কোনো অভিযোগও তিনি পাননি। শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্রের একটিতেও বিএনপির কোনো এজেন্ট ছিল না।

সেখানে ভোট চলাকালীন বেশ কয়েকবার কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। ওই কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত বিএনপি কর্মী মামুন বলেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা অন্য কোনো এজেন্টকে ঢুকতে দিচ্ছিল না। অন্য কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা প্রতিবাদ করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। জয়দেবপুরের মদিনাতুল উলুম সিনিয়র মাদরাসা কেন্দ্রে কয়েকটি বুথে ধানের শীষের এজেন্ট থাকলেও তাদের গলায় পরিচয়পত্র ছিল না। পরিচয় জানতে চাইলে কেউ পকেট থেকে, আর কেউ ব্যাগ থেকে পরিচয়পত্র বের করে দেখিয়েছেন।

বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন বিএনপি কর্মী জানান, ভেতরে যারা আছে সবাই নৌকার এজেন্ট। ধানের শীষের এজেন্টদের কার্ড কেড়ে নিয়ে তারা বুথে অবস্থান করছেন। কলমেশ্বর আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। ওই কেন্দ্রের ৭ জন ধানের শীষের এজেন্টের কার্ড ছিনিয়ে নিয়েছে নৌকা সমর্থকরা। এরপর তাদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে সেখানে অবস্থান করে তারা। ধীরাশ্রমের জিকে আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভিড়তে পারেননি ধানের শীষের এজেন্টরা। ভোটের আগের রাতে বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী আটক হওয়ায় কোনো এজেন্ট কেন্দ্রে যেতে সাহস করেনি।

মন্তব্য
Loading...