Sylhet Express

বর্তমান শাসন ব্যবস্থা ভঙ্গুর, সংস্কার প্রয়োজন : সুজন সম্পাদক ড. বদিউল

0 ৪৬৪

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘সুজন মনে করে মানব সেবার সর্বোকৃষ্ট পন্থা হচ্ছে রাজনীতি। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন। আর এজন্য প্রয়োজন সুস্থ ধারার রাজনীতি তথা আদর্শভিত্তিক জনকল্যাণমূখী রাজনীতি।’

শনিবার বিকেলে সুজন সিলেট জেলা শাখা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংষ্কার ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি এও বলেন, আমাদের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা ভঙ্গুর। এজন্য শাসন ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সবার স্বদিচ্ছা থাকতে হবে। স্বদিচ্ছা ছাড়া কোনো কিছুর উন্নয়ন হবে না।’

সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত গোল টেবিল বৈঠকে ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, ‘রাজনীতিবীদদের গতানুগতিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা হলেই নাগরিকদের ভাবনার প্রতিফলন ঘটবে।’

সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদার পরিচালনায় আলোচনায় শুরুতে প্রবন্ধ পাঠ করেন সুজনের প্রধান সমন্বয়কারী দিলিপ কুমার সরকার। আলোচনায় অংশ নেন- বিএমএ’র সাবেক কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ডা. শামীমুর রহমান, শাবির অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম, দৈনিক উত্তরপূর্বের নির্বাহী সম্পাদক তাপস দাস পুরকায়স্থ, সিনিয়র আইনজীবী বেদানন্দ ভট্রাচার্য, সুজনের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দা শিরীন আক্তার, অ্যাডভোকেট ইরফানুজ্জামান, সনাকের সহ সভাপতি সমিক শহীদ জাহান, কবি একে শেরাম, শাবি শিক্ষক আবুল কাশেম উজ্জল, জায়েদা শারমিন সাথী, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, অনলাইল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহিত চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের ব্যুরো প্রধান শাহ দিদার আলম নবেল, সাংবাদিক মুক্তাদির আহমদ মুক্তা প্রমুখ।

বৈঠকে বক্তারা বলেন, রাজনীতি সংস্কৃতির সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি কার্যকর করতে হবে জাতীয় সংসদকেও। আর তা না করতে পারলে আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হবে না। বক্তারা বিরোাধী দল ছাড়া গণতন্ত্র হয়না উল্লেখ করে বলেন, নিয়ম রক্ষার জন্য বিরেধী দলের প্রয়োজন নেই।

বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারের ১৮টি প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন, নির্বাচনী সংস্কার, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন: স্বাধীন বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক সংস্কার, স্বাধীন বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতি বিরোধী সর্বাত্মক অভিযান, বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শক্তিশালী নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, আর্থিক খাতের সংস্কার ইত্যাদি।

রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন বিষয়ে প্রস্তাবনায় বলা হয়, বর্তমানে আমরা আমাদের সমাজে বিভিন্নমূখী বিভাজন লক্ষ্য করছি। তাই, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার বিষয়টি আজ আমাদের অগ্রাধিকারে পরিণত হতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতির পরিবর্তে ভূক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

নির্বাচনী সংস্কার বিষয়ে বলা হয়, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সম্মতির শাসন তথা গণতান্ত্রিক শাসনের সূচনা হয়। তাই এ নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনটি ছিলো একতরফা ও বিতর্কিত। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কয়েকটি স্থানীয় সরকার ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আজ প্রয়োজন এর ব্যাপক সংস্কার।

কার্যকর জাতীয় সংসদ বিষয়ে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, জাতীয় সংসদকে একটি স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যাতে এটি রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণসহ নির্বাহী বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে! সংসদকে কার্যকর করার জন্য অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কে ভাবতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচেনায় সংসদকে কার্যকর করার জন্য বিরোধী দলকে সাজানো বা নিয়ন্ত্রিত বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ন না হয়ে প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে হবে, কারণ কার্যকর বিরোাধী দল ছাড়া গণতন্ত্র হয়না।

এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজন বিচার বিভাগের সত্যিকারের পৃথকীকরণ এবং আইনের শাসন কায়েম করা, স্বাধীন বিচার বিভাগ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার জন্য প্রয়োজন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন, সাংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্যে প্রয়োজন একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে পরিবারতন্ত্র, উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, পরিচয়ভিত্তিক বিদ্বেষ ও সহিংসতা পরিহার করার অঙ্গীকারসহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। সুজন মনে করে সকল সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে তিন জোটের রুপরেখার আদলে একটি সমঝোতা স্মারক বা জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর প্রয়োজন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মন্তব্য
Loading...