ভূয়া জন্ম সনদ তৈরির অভিযোগে গোলাপগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0 ১৬০

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি :: ভূয়া জন্ম সনদ তৈরির অভিযোগে গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ চৌধুরীসহ ১১জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

সদর ইউপি ব্যতিত অন্য ইউপির ৫ ব্যক্তির জন্মসনদ প্রদান, অন্যের পরিচয় ধারণ করে জালিয়াতি ও প্রতারণায় সহযোগীতা করার অপরাধে চলতি মাসের ১তারিখ তাদের বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মামলা নং-০২ /০১.০৫.১৯) দায়ের করেন সিলেট জেলা পুলিশের (ডিএসবি) শাখার উপ-পরিদর্শক মফিজুর রহমান।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ চৌধুরী, ইউপি সচিব কামরান উদ্দিন, ডিজিটাল উদ্যোক্তা বাহার উদ্দিন, সদর ইউপির ছত্রিশ গ্রামের সামছুদ্দিনের পুত্র সিরাজুল কবির ও তার বোন রোজিয়া আক্তার লিপি, বহরগ্রাম এলাকার মফুর আলীর পুত্র মাসরুর আহমদ, আমকোনা গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র সাইদুর রহমান, সদর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের আসদ্দর আলীর পুত্র মস্তাক আহমদ, একই এলাকার মৃত আহমদ আলীর পুত্র মিসির আলী, বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল খালিকের পুত্র জয়নাল ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কদমতলী এলাকার মো. চুনু মিয়ার পুত্র আনোয়ার হোসেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৭ এপ্রিল সদর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সদর ইউপির ছত্রিশ গ্রামের সিরাজুল কবির ও তার স্ত্রী সুমি বেগমের ৫ সন্তান নাহিম, আসিফ, ছাহিম, ফাহিম, ও জলি এর পাসপোর্ট তৈরির জন্য জন্ম সনদ তৈরি করেন। এ প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৬ এপ্রিল ও ৫ মে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় অফিসে আবেদন করেন তারা।

নিয়মানুসারে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য ডিএসবির দুই তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক শামীমুর রহমান ও সৈয়দ মওদুদ আহমদ রুমী একই বছরের ৩০ এপ্রিল ও ২৬ মে তদন্ত করে আবেদনপত্রে উল্লেখিত ঠিকানা যাচাই বাছাই করে আবেদন কারীদের তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি এ মর্মে দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেন। পরে পুনরায় আবেদন কারীদের ব্যাপারে তদন্তের জন্য মামলার বাদী উপ-পরিদর্শক মো. মফিজুর রহমানের উপর দায়িত্ব অর্পনের পর আবেদনকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ ভূয়া বলে জানতে পারেন তিনি। আবেদনকারীদের মধ্যে নাহিম আহমদ মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানার উত্তর লঘাটি গ্রামের ফয়েজ উদ্দিন ও লুতফা আক্তারের পুত্র আসাদুজ্জামান নায়িম।

জানা যায়- লুতফা আক্তারের দু-সম্পর্কের আত্মীয় বিয়ানীবাজার তিলপাড়া ইউপির আব্দুল খালিকের পুত্র জয়নাল। তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকার সুবাদে সিরাজুল কবির আবেদনকারীর সাথে যোগাযোগ করে নাহিম আহমদকে ছেলে বানিয়ে অবৈধভাবে বিদেশ নেওয়ার জন্য পাসপোর্ট আবেদন করেন। একইভাবে আবেদনকারী আসিফ আহমদের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় সিলেট কদমতলী (স্টারলাইট কলেজের পার্শ্বে) এলাকার চুনু মিয়া ও আঙ্গুর বেগমের পুত্র সাকিব হোসেন আসিফ।

ছাহিম আহমদ বিয়ানীবাজার উপজেলার পূর্ব মুড়িয়া অষ্টঘরী গ্রামের আব্দুল আহাদ ওরফে মাসুক ও শেফালী বেগমের পুত্র আরিফ আহমদ সায়েম। ফাহিম আহমদ পরিচয়ে আবেদনকারী গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষনাবন্দ ইউনিয়নের ফুলসাইন্দ গ্রামের মৃত রুনু মিয়া ও মৃত হালিমা বেগমের পুত্র ফাহিম আহমদ। জলি আক্তার সদর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের মজির উদ্দিন ও রোজিয়া আক্তার লিপির মেয়ে জলি আক্তার। নকল বাবা-মা সেজে অন্যের সন্তানকে নিজের সন্তান পরিচয় দিয়ে পাসপোর্ট তৈরী করে বিদেশে নেয়ার জন্য মিথ্যা জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরী করার বিষয়টি পুলিশের পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচন হয় ।

এব্যাপারে জানতে সদর ইউপি চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, জন্মসনদ তৈরি করতে প্রথম ধাপ হলো ইউপি সদস্যের সত্যায়ন৷ স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান কাশেমী এ ৫টি জন্মসনদে চেয়ারম্যান ও সচিব এর দস্তখত পরে নিবেন বলে ডিজিটাল উদ্যোক্তাকে দিয়ে নাম এন্ট্রি করান। এবিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না, পুলিশী তদন্তের পর এ বিষয়ে অবগত হই৷

ইউপি সচিব কামরান আহমদ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, জন্ম সনদ তৈরীর দায়িত্ব ডিজিটাল উদ্যোক্তা বাহার উদ্দিনের৷ আমি এর সাথে জড়িত নই। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয় নি।

জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) দীলিপ কুমার নাথ বলেন, আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য
Loading...