নেই মাধ্যমিকের সনদ, তবুও তিনি চিকিৎসক !

0 ১১২

বড়লেখা প্রতিনিধি:: নামের পাশে বিভিন্ন পদবীর ডিগ্রী লাগিয়ে নিজেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছিলেন মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ভুয়া চিকিৎসক মো. আলম খান। অবশেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ধরা পড়লেন সেই ভুয়া চিকিৎসক এবং গুনলেন ১ লাখ টাকা জরিমানা। বৃহস্পতিবার (৯ মে) দুপুরে বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রাম বাজারের তাজ খান শপিং কমপ্লেক্সে ভ্রাম্যমান আদালতের এক অভিযানের সময় এ জরিমানা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন বড়লেখার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম (ম্যাজিস্ট্রেট) মো. শরীফ উদ্দিন।

ভ্রাম্যমান আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রাম বাজারে ভুয়া পদবি ব্যবহার, মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে অগ্রিম টাকা নিয়ে চিকিৎসার আশ্বাসসহ নানা অনিয়ম করে আসছিলেন ডাক্তার পদবিধারী মো. আলম খান।

অভিযান পরিচালনার সময় রিমা বেগম নামের একজন নিরীহ নারীর কাছ থেকে দায়িত্বহীনভাবে চিকিৎসার নামে অগ্রিম ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। আলম খান টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এছাড়া তার নামের পাশে অতিরিক্ত পদবি লেখার কোনো কাগজপত্র এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সনদপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় তাকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারা এবং মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ২৯ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই সময় চিকিৎসার নামে অগ্রিম নেওয়া পাঁচ হাজার টাকা ওই নারীকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এ সময় বড়লেখা থানার শিক্ষানবিশ উপ-পরিদর্শক (পিএসআই) মো. মইনুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. সাইফুল ইসলামসহ চান্দগ্রাম বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম (ম্যাজিস্ট্রেট) মো. শরীফ উদ্দিন বৃহস্পতিবার (০৯ মে) বিকেলে বলেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। চিকিৎসার জন্য এক নারীর কাছে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দাবি করেছে। ওই নারী একসাথে দিতে না পারায় পাঁচ হাজার টাকা দেন। এছাড়া ভুয়া পদবি ব্যবহার করছে। যার কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি। এজন্য ভোক্তা অধিকার আইন ও মেডিকেল ডেন্টাল আইনে জরিমানা করা হয়।’

মন্তব্য
Loading...