Sylhet Express

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: এখনও নিখোঁজ হবিগঞ্জের দুই যুবক

0 ১৭২

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :: ভূ-মধ্য সাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় হবিগঞ্জের দুই যুবক এখনও নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার দুপুরে নিখোঁজ যুবকদের স্বজনদের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়া গেছে।

নিখোঁজ যুবকরা হলেন, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লোকড়া গ্রামের হাজী আলাউদ্দিনের পুত্র আব্দুল কাইয়ুম (২২) ও আব্দুল জলিলের পুত্র আব্দুল মোক্তাদির (২২)। দু’জনই হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজে বি.এ পাস কোর্সে অধ্যয়রত ছিলেন।

জানা যায়, গত ৯ মে রাতে দালালদের মাধ্যমে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে আব্দুল কাইয়ুম ও আব্দুল মোক্তাদির নৌকায় ওঠেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন একই গ্রামের মামুন মিয়া (২২) এবং নূরুল আমীন (২৮)। যাত্রীদের নেয়া হচ্ছিল দু’টি নৌকায় ভাগ করে। প্রথম নৌকায় ওঠেন নূরুল আমীন। ওই নৌকাটি না ডুবায় তিনি ইতালিতে পৌঁছেন। পরবর্তী নৌকায় ওঠেন বাকি তিনজন। নৌকাটি আফ্রিকার তিউনিসিয়া উপকূলে ভূ-মধ্য সাগরে ডুবে যায়। এ সময় স্থানীয় জেলেরা হবিগঞ্জের মামুনসহ কয়েকজনকে উদ্ধার করেন। তবে হবিগঞ্জের অপর যুবক কাইয়ুম ও মোক্তাদির নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ব্যাপারে লোকড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ জাহির মিয়া জানান, উদ্ধার হওয়া মামুন মিয়া তার ভাগ্নে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মামুন জানিয়েছেন, নৌকাডুবির পর মোক্তাদিরের সঙ্গে তিনি হাত ধরে সাঁতার কেটেছেন অনেকক্ষণ। হাত ছেড়ে দেয়ার পর আর মোক্তাদিরকে দেখতে পায়নি সে।

আব্দুল কাইয়ুমের বাবা হাজী আলাউদ্দিন জানান, গত বুধবার তার পুত্র বাড়িতে ফোন করে ইতালি যাওয়ার বিষয়টি জানায়। এর পর তার সহপাঠী মামুন ফোন করে নৌকা ডুবির ঘটনায় কাইয়ুমের নিখোজের বিষয়টি জানিয়েছে। এর পর থেকেই তাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুক্তাদিরও রওনা দেয়ার আগের দিন বাড়িতে ফোন করেন বলে জানিয়েছেন তার চাচা আব্দুল খালেক।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার (ওসি) মোহাম্মদ সহিদুর রহমান জানান, তিউনিসিয়া উপকূলে ভু-মধ্য সাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় হবিগঞ্জের দুজন নিখোঁজ হয়েছে বিষয়টি শুনেছি। পুলিশ বাড়িতে গিয়ে তাদের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছে। তারা কি ভাবে গেল বা এতে কোন দালাল চক্রের হাত রয়েছে কি না এ বিষয়ে পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ মে গভীর রাতে লিবিয়া উপকূল থেকে ৭৫ জন অভিবাসীবাহী একটি বড় নৌকা ইতালি পাড়ি জমায়। নৌকাটি ভূ-মধ্য সাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে ডুবে গেলে বেশির ভাগ যাত্রী মারা যায়।
এদিকে, সোমবার দুপুরে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে যেন তারা যেন পাগল প্রায়। বার বার নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের নাম নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরছিলেন তারা। নিখোজদের অভিভাবকরা তাদের ছবি বুকে নিয়ে ও তাদের বিভিন্ন স্মৃতি ঘটনা স্বরণ করে বার বার মুর্চা যাচ্ছিলেন। তবে নিখোজ শিক্ষার্থীরা অদৌ বেছে আছেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।

মন্তব্য
Loading...