Sylhet Express

রেলের ডিজিটালাইজেশনে বড় বাধা ‘সিএনএস’

0 ৩০৫

ডেস্ক রিপোর্ট:: সরকার যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছে. তখন দেশের সবচেয়ে বড় যোগাযোগ খাত রেলওয়ের ই-টিকেটিং কার্যক্রম চালাচ্ছে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস)। সেবা তো দূরে থাক, অদক্ষ এই কম্পানি এখন রেলযাত্রীদের বিরক্তি আর হয়রানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু অদক্ষতাই নয়; কম্পানিটির কর্মীরা জড়িয়ে পড়েছেন দুর্নীতিতে। সিএনএসের সর্বশেষ সংযোজন রেলসেবা অ্যাপ নিয়ে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। বাধ্য হযে এই অ্যাপ দিয়ে টিকিট কাটা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। সারাদেশে রেল ছড়িয়ে দেওয়ার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এখন থেকে ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে কাটতে পারে যাত্রীরা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বেশ কিছু রুটের টিকিট ছাড়ার আগেই সেগুলো কাটা হয়ে যাচ্ছে! এর সঙ্গে সিএনএসের অসাধু কর্মীরা জড়িত বলে রেলপ্রেমীদের অভিযোগ। এর আগে গত বছর সৈয়দপুরে ট্রেনের টিকিটসহ মো. মোকছেদুল ইসলাম বিদ্যুৎ নামে সিএনএসের স্থানীয় প্রতিনিধিকে আটক করেছিল রেলওয়ে থানা পুলিশ। পরে ভোক্তা অধিকার আইনে তার শাস্তিও হয়েছিল। তাছাড়া ঈদ বা লম্বা কোনো ছুটির আগে সিএনএসের ওয়েবসাইট ডাউন হয়ে যাওয়া তো সাধারণ ঘটনা। অনলাইনে যদি টিকিট থেকেও থাকে, তবে সেটা পেতে গেলে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। অনলাইন হলেও ২৪ ঘণ্টা টিকিট কাটতে পারেন না যাত্রীরা। প্রতি টিকিটের চার্জ হিসেবে ২০টাকা করে বাড়তি কেটে নেয় সিএনএস। যদি কেউ একসঙ্গে ৪টি টিকিটও কাটে; তাহলেও তাকে ৮০ টাকা বাড়তি হিসেবে প্রদান করতে হবে। অথচ, দেশে বেশ কিছু ইন্টারনেট পেমেন্ট গেটওয়ে আছে, যেগুলো প্রায় বিনামূল্যে কিংবা খুব স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট ট্রানজেকশনের সুবিধা দিয়ে থাকে। কিন্তু সিএনএসের কারণে এভাবেই পকেট কাটা যাচ্ছে যাত্রীদের। সম্প্রতি চালু হওয়া ‘রেল সেবা’ নামক রেলের অ্যাপ দিয়ে গত কিছুদিন ধরে টিকিট কাটতে পারছেন না যাত্রীরা। কিন্তু পেমেন্ট হিসেবে ঠিকই টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এসব টাকা আদৌ ভুক্তভোগীরা ফেরত পাবেন কিনা সে নিয়ে সন্দেহ আছে। যেমন বাবুল মণ্ডল নামের একজন অভিযোগ করেছেন, ‘সিএনএএস গত ডিসেম্বরে আমার কার্ড থেকে টাকা কেটে নিয়েছে, অথচ টিকিট পাইনি। এখন পর্যন্ত সেই টাকাও ফেরত পাইনি। ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। এখন ব্যাংকে গেলে বলে সিএনএসবিডি টাকা ফেরত দেয়নি। মনে রাখতে হবে এটা বাংলাদেশ। কারো কোন জবাবদিহিতা নেই।’ এই অ্যাপ নিয়ে ব্যবহারকারীদের আছে বিস্তর অভিযোগ। খুব নিম্নমানের ইউজার ইন্টারফেস দেয়া হয়েছে অ্যাপে। এতে প্রবেশ করতে গেলে বারবার লগিন করতে হয়। ট্রেনের অভ্যন্তরের ছবির যে অপশন দেওয়া আছে, তাতে সব ট্রেনের একই ছবি দেখায়। আর ধীরগতির জন্য অ্যাপটি হয়ে উঠেছে বিরক্তিকর। বোঝাই যাচ্ছে, কোনোরকম করে লোকদেখানো একটা অ্যাপ বানিয়ে তা রেলওয়েকে গছিয়ে দিয়েছে সিএনএস। গত ২৮ এপ্রিল অ্যাপটি লঞ্চ করার পর এখনও পর্যন্ত কোনো আপডেট দিতে পারেনি কম্পানিটি। দেশের ডেভলপাররা এর চেয়ে ভালো ইন্টারফেসের অ্যাপ তৈরি করছে; যার ভুড়ি ভুড়ি উদাহরণ প্লে স্টোরে রয়েছে। তবুও এই কম্পানি দিয়েই চলছে রেলের ডিজিটালাইজেশন। শুধু রেল সেক্টর নয়; বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল আদায়ে ডিজিটাল সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পুরনো। রেলের অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইটে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে হাতে গোনা কয়েকটি ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড এবং মোবাইল ট্রানজেকশনের সুযোগ আছে। কিন্তু দেশের অন্যান্য অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েগুলো ২০টির বেশি কার্ড এবং মোবাইল পেমেন্টের সুযোগ দিচ্ছে। সেখানে সিএনএসের কল্যাণে রেল পড়ে আছে অনেক পিছিয়ে। যাত্রীরা তাদের সুবিধামতো পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করতে পারছেন না।ট্রেনের টিকিটে যাত্রীর নাম সংযোজনের বিষয়টি বারবার পিছিয়ে গেছে এই সিএনএসের কারণে। টিকিটে তাদের লোগো রাখার জন্য কম্পানিটি দীর্ঘদিন গড়িমসি করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের চাপে তাদের আপত্তি ধোপে টিকেনি। তবে তাদের লোগে এখনও বহাল তবিয়তে টিকিটের নিচে রয়ে গেছে। অর্থাৎ, রেলের স্বার্থের ক্ষতি হলেও সিএনএসের স্বার্থ ঠিকই রক্ষা হচ্ছে। যাত্রীদের দাবি, এই অদক্ষ কম্পানির সঙ্গে অবিলম্বে সম্পর্ক ছিন্ন করুক রেলওয়ে। নাহলে এভাবে যাত্রী হয়রানি চলতেই থাকবে। দেশের মেধাবী প্রোগ্রামার, ডেভলপারদের নিয়ে গড়ে উঠুক রেলওয়ের নিজস্ব প্রযুক্তি দল।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য সিএনএস-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এক কর্মকর্তা কালের কন্ঠকে বলেন, ‘এখন বিবৃতি দেওয়া যাবে না, পরে যোগাযোগ করেন’। -কালের কণ্ঠ

মন্তব্য
Loading...