Sylhet Express

ক্যাসিনোর ফাঁদে বাংলাদেশ

0 ২৫৩

অতিসম্প্রতি বাংলাদেশে ক্যাসিনো নিয়ে বেশ হইচই হচ্ছে। ক্যাসিনো নামক বালাখানাতে জুয়াড়ীদের জড়ো করে ভিন্ন কায়দায় ব্যাবসা করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের অসাধুরা। বিগত কয়েকদিনে আইন শৃখলা বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনোর আসর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা ও বিদেশি মদ যা দেশবাসীকে শুধু অবাক করেনি বাকরুদ্ধ করেছে। অপরাধী চক্র প্রশাসনের চোখের সামনে জুয়ার আসর বসিয়ে কতজনকে যে পথে বসিয়েছে কে জানে। সবচেয়ে অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে জুয়াড়ীরা যে জায়গা গুলো বেচে নিয়েছে তা যে কারোর বুঝার উপায় নেই ভিতরে কি হচ্ছে। ঢাকার সব ঐতিহ্যবাহী নামী দামী ফুটবল ক্লাবের এই অনৈতিক পথে নামা নিয়ে সারা দেশে নিন্দার জড় বইছে। প্রশ্ন হলো ক্যাসিনোর ভূত কেনো চেপে বসেছে? জুয়ার জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভূমিধস হওয়া রাষ্ট্রের দিশেহারা তরুণ-যুবকদের দায় কে নিবে?

বাংলাদেশে ক্যাসিনোর আবির্ভাব নিয়ে তর্কবিতর্কের শেষ নেই। কিন্তু এই অবৈধ জুয়ার আসরগুলো গত এক যুগ ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে রমরমা ব্যাবসা করে যাচ্ছে কীভাবে? নিশ্চই করো না করোর আশ্রয় প্রশ্রয় ছিল। তা না হলে শুধু মাত্র ঢাকা শহরে প্রায় ৬০টির মত ক্যাসিনো কিভাবে পরিচালিত হতো? রাষ্ট্রের নাগরিকরা ত আর বোকার রাজ্যে বাস করে না, সবই বুঝে। কাজেই কিভাবে এসেছে এটা নিয়ে সময় নষ্ট না করে, কিভাবে নির্মুল করা যায় তা নিয়ে গভেষণা কাম্য। আমাদের রাজনীতিবীদরা সেই পুরোনো মন্দা আমলের রাজনৈতিক চর্চা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা ত দুরের কথা বরং আর দুষিত অদ্ভুত শব্দ দ্বারা কলংকিত করেছেন রাজনীতিকে। ফলাফল যেই সেই, যেখান থেকে দেশ যাত্রা করেছিল স্বাধীনতার প্রায় পাচ যুগে এসে ও সামান অবস্থানে কোন উন্নতি নেই। খুবই পরিস্কার, আমরা পেয়েছি অযোগ্য রাজনীতিবীদ যারা সদাসর্বদা দুর্নীতিকে লালন করে।

চাদাবাঁজী ও দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্রলীগের শোভন-রাব্বানী দিয়ে যে শুদ্ধি শুরু হয়েছিল তার আছড় এখন যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের উপর পড়েছে। দেশে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে,রাজনীতিবীদ থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি কেউ বাদ নেই,সবার রন্দ্রে রন্দ্রে দুর্নীতি।যাইহোক, শুদ্ধির জালে নিজের ঘরের লোকজন কাবু। যদিও মূল উদ্দেশ্য তালগোলের পথে। শুদ্ধি কতটা শুদ্ধ হবে তা প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।ইতিমধ্যেই জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতির কেলেঙ্কারী শিক্ষাঅঙ্গনে কলংকিত করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিরকুট দুর্নীতি আমাদের লজ্জায় নিমজ্জিত করেছে।ক্ষমতাসীনদের ঘরে এখন অশান্তি বিরাজ করছে। তার উপর ক্যাসিনো থেরাপী সবাই আতঙ্কে আছে।

ঢাকাসহ সারা দেশে জুয়ার আসর বসিয়ে এক সময়ের ঠুকাই, চেছড়া চোর, সুবিধাবাদী রাজনীতিবীদ এখন সমাজপতি তারা কোটি টাকা ঘরে নিয়ে ঘুমায়। টাকার পরিমাণ দেখে মনে হয় তারা টাকা রাখার জায়গা পাচ্ছে না। টাকাকে স্বর্ণে রুপান্তর করছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ঘরে টাকার লকার এ যেন আরেক ব্যাংক। এ এক আজব টাকার নৃত্যে মেতেছে ক্ষমতাসীনরা।অবস্থাদৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে দেশটাকে তারা নিজেদের মত করে লুটেপোটে ফোকলা করবে কিন্তু কেউ টু শব্দ করতে পারবে না। করলেই বিপদ, যা আমরা দেখেছি চট্টগ্রামে হুইপ শামসুল হকের বিরুদ্ধে ক্যাসিনোর টাকা খাওয়ার অভিযোগ করেছেন দিদারুল আলম। তিনি আওয়ামী লীগের একজন বড় আঞ্চলিক নেতা। আর সেই অভিযোগকেই কেন্দ্র করে হুইপ পুত্র নাজমুল করিম শারুন টেলিফোনে তার পিতৃতুল্য আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলমকে টেলিফোনে যে ভাষায় গালাগালি করে হুমকি দিয়েছেন তা কিসের সংকেত? শুধু কি তাই পুলিশ ইন্সপেক্টর সাইফ আমিন অভিযোগ করেন হুইপ শামসুল হক বিগত ৫ বছরে ১৮০ কোটি টাকা ক্যাসিনোর জুয়ো থেকে নিয়েছেন। এই অভিযোগের অপরাধে পুলিশ ইন্সপেক্টর সাইফ আমিনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। শামসুল হকের এত ক্ষমতা! কি আজব ব্যাপার যে ব্যাক্তি এক সময় টাইপ রাটার চুরির অপরাধে জেল খেটেছে যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের আইনে জুয়ার কোন বৈধতা নেই। ক্যাসিনো বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী। যদিও অনেকে জুয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারপরও বাংলাদেশ সংবিধানে জুয়ার কোন অনুমোদন নেই এমনকি এ খেলা বন্ধে আইন করা হয়েছে। সংবিধানের ‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’ অধ্যায়ে ‘জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ অনুচ্ছেদ ১৮ (২) “গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন”। মানে কি দাড়াল, এখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে জুয়া খেলা বন্ধে রাষ্ট্র প্রয়োজনে আইন প্রণয়ন করতে পারে। তাছাড়া ১৮৬৭ সালের বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন অনুযায়ী যেকোনো ঘর, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তাঁর মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা সাহায্যকারীকে আইনের আওতায় এনে কারাদন্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা করা যেতে পারে, যে আইনটি এখনও প্রযোজ্য। কাজেই যারা গলাবাজি করছেন যে বিদেশিদের জন্য ক্যাসিনো করবেন তারা কী সংবিধান পরিবর্তন করবেন? যদি এমন হয় তাহলে সামনের দিনগুলো হবে আর ভয়াবহ।

মোঃ হাফিজুর রাহমান
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অনলাইন এক্টিভিষ্ট

মন্তব্য
Loading...