Sylhet Express

ছাত্রলীগের টর্চার কমান্ডার জয়ের দাপটে তটস্হ সাধারণ শিক্ষার্থীরা

0 ৩৬

নদীর গতিপথ যদি পরিবর্তন হয় তবে এর সৌন্দর্যেরও পরিবর্তন ঘটে। কখনও সৌন্দর্য বাড়ে আবার কখনও কমে। বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির বেলাও সেই টি ঘটেছে। গতিপথ পরিবর্তনের ফলে এর সৌন্দর্যের দিক কমে আজ অনীহার সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে সুষ্ঠু ধারার ছাত্র রাজনীতি বিলুপ্তির পথে । ছাত্ররা আজ স্বাধীন চিন্তাধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বর্তমানে ছাত্র রাজনীতি বলতে সবাই ক্ষমতার প্রয়োগ আর নিজের আখের গোছানোকেই বোঝে । ক্ষমতাসীনরা যেমন বিভিন্না মত ও আন্দোলনকে মোকাবেলা করতে ছাত্রদেরকে ব্যবহার করছে, ছাত্ররাও তার ফায়দা লুটে স্বেচ্চারিতার পথ বেছে নিচ্ছে। দেশের প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ছাত্র রাজনীতির ভয়াল ছোবলে ছিন্ন ভিন্ন।

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে চাঁদা দাবি, সেই সাথে হলে মাদকের রমরমা ব্যবসা ও আবাসিক হলের কক্ষে বহিরাগতদের নিয়ে মাদক সেবন কিংবা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ওঠানো এমন কোন অভিযোগ বাদ নেই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল ইসলাম জয়ের নামে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টর্চার সেলের কমান্ডার হিসাবেই বেশি পরিচিত এই ছাত্রলীগ নেতা।

মানবজমিনের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে জয়র কুকীর্তি কাহিনী,প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও দিনের পর দিন নীরব ভূমিকা পালন করে আসছে প্রশাসন। এমনকি একটি ঘটনার পর জয় তার অপরাধ স্বীকার করলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। জানা যায়, হল প্রশাসন কর্তৃক সিট বরাদ্দ থাকলেও শিক্ষার্থীরা জয়কে চাঁদা না দিয়ে হলে উঠতে পারে না।

সর্বশেষ গত ২৭শে সেপ্টেম্বর রায়হানুল কবির নামের এক শিক্ষার্থীর কাছে চাঁদা দাবি করে জয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আবুল কালাম আজাদসহ ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। একইসঙ্গে ২ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে হল ছাড়ার হুমকি দিলে তাজহাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ওই শিক্ষার্থী। একই দিন আরো একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করেন জয়। পুনরায় মারধরের ভয়ে কারো কাছে অভিযোগ করেনি ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। এ ছাড়া, ১৯শে সেপ্টেম্বর চাঁদা দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্ত্রীয় ক্যাফেটোরিয়া বন্ধ করে দেন তিনি।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আবাসিক হলে বৈধ সিটে উঠতে চাওয়ায় আল আমিন ও সৌম্য সরকার নামে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেন ছাত্রলীগের এই নেতা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ এবং থানায় মামলা করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

তারা ২ জনই বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য। চলতি বছরের ২৭শে এপ্রিল শহীদ মুখতার ইলাহী হলের ডাইনিং বয় জাকির হোসেনের কাছে চাঁদা না পেয়ে নির্যাতন করে হলে অবৈধভাবে অবস্থান করা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল ইসলাম জয়।

এদিকে মারধরের পর চাঁদা না পাওয়ার জেরে হলের ডাইনিং কক্ষে তালা দেন জয়। এ ছাড়াও জয়ের কক্ষে নতুন শিক্ষার্থীদের আচরণ শেখানোর নাম করে চাঁদা দাবি, চাঁদা না দিলে মাদক দিয়ে ফাঁসানো এবং উলঙ্গ করে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এসব অপকর্মে ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও। অতিদ্রুত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে হল থেকে বের করে দেয়ার অনুরোধ করেন শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এই বিষয়ে জয়ের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোন ধরেননি তিনি।

জয়ের কুকীর্তির কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলে জানলেও বেরোবির শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট শাহীনুর রহমান বলেন, আমি সদ্য ওই হলের দায়িত্ব পেয়েছি। এসব বিষয়ে খুব বেশি অবগত নই।

মন্তব্য
Loading...