Sylhet Express

৭১ বছর বয়সে বাবা হলেন তোতা মিয়া

0 ১৭৬

বয়স বাড়ার সাথে নারী পুরুষ উভয়েরই কাম উদ্দীপনা হ্রাস পেতে থাকে, কিন্তু তাই বলে সম্পূর্ণ হারিয়ে যায় না, তবে নারীর চাইতে একজন পুরুষের যৌনজীবন বেশি দীর্ঘাস্হায়ী হয় সে কথা আরো একবার প্রমান করলো ময়মনসিংহের তোতা মিয়া । হাবিবুর রহমান তোতা মিয়া ৭১ বছর বয়সে পুত্র সন্তানের জনক হয়ে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।

এর আগেও ৬৯ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসে এলাকায় সাড়া ফেলেছিলেন তিনি। জীবনে নিজের কাছের নিজের প্রতিজ্ঞা ছিল আত্ননির্ভর স্বাবলম্বী না হয়ে বিয়ে করবেন না, কিন্তু সেই সাবলম্বী হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু জীবন থেকে চলে গিয়েছে ৬৯ বছর। তবুও আত্মবিশ্বাসী তোতা মিয়া ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার তারাটি ইউনিয়নের কলাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ।

জীবনের উদ্দেশ্য সফল করেছেন তোতা মিয়া, তোতা মিয়া বর্তমানে ২০ একর জমির মালিক। গ্রামের মানুষের সুবিধার্থে প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজ নামে সরকারি প্রাথমিক স্কুল, কওমি মাদ্রাসা, জামে মসজিদ, কবরস্থান, ঈদগাহ মাঠ। এছাড়াও একটি কলেজ ও বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুলতে দুই একর জমি দান করেছেন তিনি।

এত কিছু পরে ৬৯ বছর বয়সে যখন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন অবশ্য পাত্রী পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল, এরপর একই উপজেলার কুমারগাতা ইউনিয়নের মনতলা গ্রামের ২৩ বছর বয়সী আকলিমা খাতুন যিনি দরিদ্র পরিবারের এক কন্যা সন্তানের জননী স্বামী পরিত্যক্তা সম্মত হন তোতাকে বিয়ে করতে। আর এরপর পুরোটাই ইতিহাস, বিয়ের মাত্র দুই বছরের মধ্যেই অর্থাৎ চলতি বছরের ১৮ জুলাই দম্পতি এক পুত্র সন্তান লাভ করেন।

হাবিবুর রহমান তোতা সন্তানের নাম দিয়েছেন মো. আল রহমত উল্লাহ।
হাবিবুর রহমান জানান, শৈশব থেকে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে আমাকে অনেক ধাপ পার হতে হয়েছে।

কৃষি পেশার এই তোতা মিয়া বলেন, ‘কলা, আলু চাষাবাদ করে আমি আজ সম্পদের মালিক হয়েছি। মানুষের কল্যাণে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। এজন্য আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সফল হতে গেলে বয়স লাগে না।’
শিশুটির বিষয়ে বলেন, ‘ওকে নিয়েই আমার এখন সবচেয়ে বেশি সময় কাটছে। ওই এখন আমার জীবনের নির্ভরযোগ্য বন্ধন।’

মানুষের চেষ্টা ও প্রজ্ঞা একজন সাধারণ মানুষকেও যে অসাধারন করে তুলতে পারে তোতা মিয়া তার জ্বলন্ত উদাহরন

মন্তব্য
Loading...