Sylhet Express

সম্রাটকে মাপ করে দেবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে মায়ের আকুতি

0 ৩৫

হোক সে ক্যাসিনো সম্রাট জুয়াখোর, তবুও তো সে তার মা, আর তাই সেই মা এবার তার গুনধর ছেলে সম্রাটের ক্ষমার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানালেন।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হবার পর থেকে সবচেয়ে বেশি যে নামটি আলোচনায় ছিল তা হলো সম্রাট, অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনা শেষে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। যদিও সমালোচকদের মতে রিমান্ডে না নিয়ে বরং ক্যাঙ্গারুর চামড়া রাখার জন্য ভ্রাম্যমান আদালত কারাদন্ড দিয়ে সরাসরি জেলহাজতে পাঠিয়ে ষম্রাটকে এক ধরনের বিশ্রামে পাঠিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা। এবার সেই সম্রাটের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানালো তার মা। ভুলত্রুটি ক্ষমা চেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করেছেন তার মা সায়েরা খাতুন চৌধুরী।

আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আকুতি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মা সায়েরা খাতুন চৌধুরীর পক্ষে তার মেয়ে ফারহানা চৌধুরী একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানাতে চাই, আপনি মমতাময়ী জননী, মানবতার মা, সম্রাট আপনার কর্মী, আপনার সন্তানতুল্য। সম্রাট আপনার সংগঠনে অনুপ্রবেশকারী নয়। আমি একজন মা হিসেবে আপনার কাছে আকুতি করছি সম্রাটের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে ওকে মুক্ত করে দিন এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়ে আমার সন্তানের জীবন রক্ষা করুন।’

সম্রাটকে জাতির পিতার আদর্শ সৈনিক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৃণমূলের পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয় লিখিত বক্তব্যে।

তিনি বলেন, ‘২০০৩ সালে সম্রাটকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয় এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে। পরে একই বছরে জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে সম্রাটকে ঢাকা মাহনগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।’

‘বিএনপি জামায়াতের রাজনীতিক নির্যাতনে সম্রাট বহুবার আহত হন। এ কারণে ২০০৩ সালে সম্রাটকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৯৯ সালে উপমহাদেশের বিখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠির অধীনে সম্রাটের ওপেনহার্ট সার্জারির মাধ্যমে ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়। তখন থেকে সম্রাট আজ অবধি অসুস্থ শরীর নিয়ে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৬ অক্টোবর রাতে সম্রাটকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর সম্রাটের দেওয়া তথ্যমতে পরের দিন দুপুর থেকে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় সেখান থেকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, পাঁচটি গুলি, ১১৬০ পিস ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদের বোতল ও দুটি ক্যাঙারুর চামড়া উদ্ধার করা হয়।

গত ৭ অক্টোবরই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে সম্রাটের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে অস্ত্র ও মাদক রাখায় সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা করা হয়। এসব মামলায় তিনি এখন কারাবন্দী।

মন্তব্য
Loading...