Sylhet Express

ফকিরাপুলের সেই ক্যাসিনো থেকে প্রতিমাসে ৪ লক্ষ টাকা পেতেন সেই এমপি

0 ১২০

ক্যাসিনো অভিযানকে কেউ কেউ দেখছেন আওয়ামীলীগের মধ্যাকার শুদ্ধি অভিযান হিসাবে, আর কেউ কেউ দেখছেন দলীয় অন্তঃকলহ বা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে এক পক্ষ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মাধ্যম হিসাবে ।এখন পর্যন্ত অভিযানের ধরন দেখে মনে হয় যে এর লক্ষ্য হচ্ছে যুবলীগ। অথচ নানা ধরনের দুর্নীতি ও অপরাধের অভিযোগ দলটির অন্য অনেক নেতার বিরুদ্ধেই রয়েছে। যেমন বলা যায়, মাদক কারবারের অভিযোগের শীর্ষে থাকা কক্সবাজারের সাবেক সাংসদ বদির কথা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সরকারের গোপন নথিতেই আটকে আছে। কোনো মামলা বা বিচারের পথে এগোয়নি। নানা রকম অভিযোগের কারণে তাঁর মতো আরও কয়েক ডজন নেতার সংসদে ফেরার সুযোগ না হলেও তাঁদের কারও বিরুদ্ধে কোনো মামলার খবর পাওয়া যায় না। সুতরাং একে শুদ্ধি অভিযান বলা বিভ্রান্তি সৃষ্টিরই নামান্তর।

তবে এবার ক্যাসিনোর খরগ নেমে আসার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে অতি সম্পর্তি সরকারের সমালোচনা করে কথা বলা ঢাকার স্থানীয় একজন সংসদ সদস্যের উপর। অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে তিনি নাকি প্রতি মাসে ৪ লাখ টাকা পেতেন ।যুবলীগের বহিষ্কৃত দুই নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। প্রতি মাসে কোন তারিখে, কার মাধ্যমে ক্যাসিনোর টাকা ঐ সংসদ সদস্যের কাছে পৌঁছানো হতো তার বিস্তারিত তথ্য সম্রাট-খালেদ বলে দিয়েছেন।

রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এর মালিক যুবলীগের বহিষ্কৃত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে। ক্লাবটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হলেন একজন এমপি। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে ঐ এমপি বলেন, ক্যাসিনো সম্পর্কে কিছুই জানতাম না, ক্যাসিনো চলছে কিনা তা দেখভাল করা গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তিনি আরো বলেন, এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে আমাকে ইয়ংমেন্স ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। এলাকার কোথায় কী ঘটছে, তার খবর রাখার দায়িত্ব সংসদ সদস্যের নয়, পুলিশের। তিনি বলেন, আমি জানি ইয়ংমেন্সের ফুটবল টিম আছে। ক্রিকেট খেলে। আমাকে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সেখানে একদিন নিয়ে যায় এবং বলা হয়, আপনি ক্লাবের চেয়ারম্যান হবেন। আমি বলেছিলাম, ঠিক আছে। ব্যস ঐটুকুই। আমি এরপর আর কখনো সেখানে যাইনি।

কোটি কোটি টাকার ক্যাসিনো সেটাপ, নারী-পুরুষ এনে সেগুলো পরিচালনা করাসহ নানা অবৈধ কাজ চলতো ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়ার নিয়ন্ত্রণে। এত বড়ো আয়োজনের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ জানতো না? জানলেও তারা চুপ ছিল কেন? আটকের পর র‍্যাব কার্যালয়ে তাদের কাছে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ক্যাসিনো থেকে উপার্জনের টাকা কার কার কাছে যেত, সে নিয়েও প্রশ্ন করা হয় তাদের। তখন তারা নাকি জানায় ফকিরাপুল, আরামবাগ, মোহামেডানসহ মতিঝিল এলাকায় ইয়ংমেন্স ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, মোহামেডান ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর জন্য ঐ সংসদ সদস্যকে টাকা দিতে হতো।

ঘটনা যাই হোক, কথিত ক্যাসিনোওয়ালাদের যেসব কাহিনি উঠে আসছে, সেগুলোতে এক যুগ আগের সেনাসমর্থিত সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কিছুটা মিল দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা সন্দেহভাজন ক্যাসিনোওয়ালারা কথিত যেসব স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন, তা কোনো রকমে যাচাই-বাছাই ছাড়া ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। তাই কোথাকার পানি কোথায় গড়ায় তা সময়ই ভালো বলে দিবে।

মন্তব্য
Loading...