Sylhet Express

সিলেট বি আর টি এ’তে এডি সানাউলের রামরাজত্ব !

0 ৫৫৮

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনঃঃ সিলেট বিআরটিএ অফিসে পদে পদে পাতা হয়েছে দুর্নীতির ফাঁদ। বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. সানাউল হক ও মোটরযান পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তাদের নির্ধারিত দালালরা, জেলা প্রশাসনের লাগোয়া নির্ধারিত কয়েকটি স্টেশনারি দোকান এবং দালাল মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি বিআরটিএ সিলেট অফিস। আর এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করেন বিআরটিএ সিলেটের সহকারী পরিচালক মো. সানাউল হক এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। দালাল আর টাকার সমন্বয় ঘটাতে পারলে সিলেট বিআরটিএ অফিসে হয় না এমন কোন কাজ নেই।

সিলেটে ড্রাইভিং লাইসেন্সের শুরু থেকেই শেষ পর্যন্ত জাল কাগজপত্র, দুর্নীতি আর টাকার খেলা। আবেদন থেকে শুরু করে ফিঙ্গার প্রিন্ট পর্যন্ত ধাপে ধাপে দিতে হয় উৎকোচ। সব মিলিয়ে একটি লাইসেন্স করতে গুনতে হয় ৮/১০ হাজার টাকা। আর যদি সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকে তাহলে আপনাকে গুনতে হবে ১২/১৫ হাজার টাকা। এমনই অবস্থা বিআরটিএ সিলেট অফিসে। যেখানে ‘নির্ধারিত ঘুষ’ ছাড়া মেলে না কোন সেবা কিংবা তথ্য। তাই ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সিলেট বিআরটি এ গ্রাহক সেবা অপ্রতুল লুটপাট করে খাচ্ছে এডি সানাউল।

বিআরটিএর প্রতিটি শাখায় সিন্ডিকেট করে রেখেছেন তিনি। পরীক্ষার রোল নিতে গেলে এডি সানাউল বলেন রোল শেষ হয়ে গেছে।জৈনক আরটিসি মেম্বার পুলক কবির চৌঃ ও লেগুনাস্ট্যান্ড চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদের মাধ্যমে দিলে পরীক্ষার রোল পাওয়া যায়। মালিক ছাড়া লার্নারের ফাইল নেন না কিন্তু উনার অধিনস্ত টিবয় ইমন ও মাহদী সহ ১৬ দালালের মাধ্যমে লার্নার প্রতি ৪০০টাকা করে দিলে সহজেই লার্নার পাওয়া যায়। সিলেট বিআরটিএ অফিসের দুর্নীতি, অনিয়ম আর বিভিন্ন বিষয়ে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য এমন হাজারো অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

লাইসেন্সের এই টাকা আবার দুই ধাপে ভাগ-বাটোয়ারা হয়। প্রমথ বার শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের জন্য নেয়া হয় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। আর সার্টিফিকেট না থাকলে ৩/৪ হাজার টাকা। এরমধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন ভাগ-বাটোয়ারা। এই টাকা থেকে ডাক্তারের ‘নকল’ ফিটনেস সার্টিফিকেট বাবৎ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, ব্যাংকে জমা ৫১৮ টাকা, বিআরটিএ অফিসের লাইসেন্স শাখায় কমর্রত ইমন নেন ৩০০ টাকা আর বাকী টাকা পান বাইরের দালালরা।

জানা যায়, নিয়মের বাইরে লোক নিয়োগ, লাইসেন্স পরীক্ষায় চুক্তি, ফিটনেসের অতিরিক্ত টাকাসহ নানা কাজের মাধ্যমে ‘অবৈধভাবে কোটি কোটি’ টাকার বাণিজ্য করছে এই সিন্ডিকেট। এছাড়া লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, রোড পারমিট, ট্যাক্সসহ সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দেয়ার মতো টাকা না থাকে তাহলেও এসব কাগজপত্রের ‘অবিকল নকল’ কাগজ করে দেয়া হচ্ছে নির্ধারিত টাকার বিনিময়ে। এতে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি হয়রানিতে পড়তে হয় ট্রাফিক পুলিশকে।সিলেট মেট্রাপলিটন পুলিশের কয়েকজন (ট্রাফিক) সদস্য বলেন, ‘আমরা যখন অভিযানে যাই বা বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করি। তখন অনেক গাড়ির কাগজপত্র দেখা যায় ভুয়া। এরমধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস, ট্যাক্স, রোড পারমিটসহ নানান ধরণের কাগজপত্র জাল পাওয়া যায়।’অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি নিজের মোটর সাইকেলের জন্য একটি কাগজ বানাতে যান নোমান নামের এক ব্যক্তি। সিলেট বিআরটিএ অফিসে রের্কড রুমে পরিচয় হয় সাব্বির নামের এক দালালের সাথে।

সাব্বির সব শুনে প্রয়োজনীয় ছবি ও কাগজসহ ২ হাজার টাকা তার তানভীরের কাছে দিয়ে যেতে বলেন। তানভীরের কথা অনুযায়ী নোমান প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা জেলা প্রশাসনের লাগোয়া একটি স্টেশনারি দোকানে বসা দালাল সাব্বিরের ভাইয়ের হাতে টাকা দিয়ে যান। দালাল সাব্বিরের ভাই তানভীর দুইদিন পর কাগজ নিয়ে যেতে বলেন।
কাগজপত্র হাতে পেয়ে দেখা যায়, সহকারী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট শীল স্বাক্ষর রয়েছে। এমনকি সরকারি কাগজে অবিকল নকল করে দেয়া হয়েছে। এখানে একটি নাম্বারও (হ-১১৮৭৫৩) রয়েছে। সেটি ব্যবহার করলে পুলিশ ধরতে পারবে না বলেও জানান তানভীর।

এখানেই শেষ নয়, বিআরটিএ সিলেট অফিসের সহকারী পরিচালক ও লাইসেন্স শাখার মোটরযান পরিদর্শক এবং তাদের নির্ধারিত দালালদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে জেলা প্রশাসন লাগোয়া কয়েকটি স্টেশনারি দোকান। মূলত যারাই বিআরটিএ অফিসে ফরমসহ বিভিন্ন কাজে যোগাযোগ করেন তাদেরকে নির্ধারিত দোকানে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপরই নির্ধারিত লোকজন নির্ধারিত টাকার বিনিময়ে কাজটি হাতে নেন।আর ভেতরে থেকে দালাল সাব্বিরের মাধ্যমে অন্যান্য দালালরা রেকর্ডরুম থেকে তথ্য এনে ভুয়া লাইসেন্স বা ফিটনেসসহ অন্যান্য কাজ করে থাকেন। এরপর এসব কাগজপত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সহকারী পরিচালক বা মোটরযান পরিদর্শকের শীল-স্বাক্ষর দিয়ে গ্রাহকদের সরবরাহ করেন।

এভাবেই বিআরটিএ অফিস থেকে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। কারণ ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা যখন এসব ভুয়া কাগজপত্র সনাক্ত করেন কিংবা কোন কাগজপত্র নিয়ে তাদের সন্দেহ হলে তারা বিআরটিএ সিলেট অফিস থেকে মূল কাগজ চেয়ে আবেদন করেন।এরপর সেগুলো ভুয়া প্রমাণিত হলে কোর্টে পাঠানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের একজন সার্জেন্ট।

সুত্র জানায়,বিআরটিএর প্রতিটি শাখা যেমন লাইসেন্স, ফিটনেস, পারমিট,রেজিষ্ট্রেশন, রেকর্ড শাখা সহ সব শাখা থেকে প্রতিদিন গুনে গুনে টাকার হিসাব বুঝাইয়া দিতে হয় এডি সানাউল হককে। প্রতিদিন অফিস আওয়ার ৯ টা থেকে ৫টা কিন্তু সিলেট বিআরটি এ অফিস চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। পুলিশ রিপোর্ট গ্রাহক এনে দেওয়ার কথা থাকলেও কম্পিউটার অপারেটর মামুনকে ৫০০টাকা করে নজরানা না দিলে পুলিশ রিপোট পাওয়া যায় না একমাসেও। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেট বিআরটি এর দূর্নীতি খুঁজতে মাঠে নেমেছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। আগামী পর্বে থাকছে এডি সানাউলের নারী কেলেঙ্কারি সহ অনেক তথ্য ,

এ ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। যদি এরকম হয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’বিষয়টি নিয়ে বিআরটিএ সিলেট অফিসের লাইসন্স শাখার মোটরযান পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ভুয়া লাইসেন্সে আমার শীল-স্বাক্ষর থাকার কথা নয়। তবুও আমি খোঁজ নিচ্ছি। এ কাজের সাথে সম্পৃক্তরা আছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে অফিসে দেখা করার কথা বলেন।


বিআরটিএ- সিলেট অফিসের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে তাদের দালালরা এখন অনিয়মের টাকায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।এদিকে দালালদের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআরটিএ সিলেট অফিসের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. সানাউল হক বলেন, এদেরকে বের করে দেয়া হবে। তবে জাল-কাগজপত্রের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে ‘খোঁজ’ নেয়ার বিষয়টি এমন জোরালোভাবে বলা হলেও তা অনেকটা গল্পের মতো। গল্প শেষ, খোঁজ নেয়াও শেষ। যে কারণে শর্ষের ভূত শর্ষের মাঝেই থেকে যায়।

এ অবস্থায় বিআরটিএ’র পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. লোকমান হোসেন মোল্লা বলেন, কয়েকটি বিষয় আমাদের কাছে এসেছে। তবে এই বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এমন হয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চলমান , ,

মন্তব্য
Loading...