Sylhet Express

সিলেট বিআরটিএ’তে কম্পিউটার অপারেটর ইসমাইলের ‘রামরাজত্ব’,মাসিক আয় ‘কোটি টাকা ’!

0 ৪১৮

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন :: ( পর্বঃ১ ) ইসমাইল হোসেন বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)’র অফিস সহকারী কাম- কম্পিউটার ওপারেটর, বর্তমানে তিনি লাইসেন্স শাঁখার ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করন সেকসনে কর্মরত আছেন।

চাকুরী জীবনের প্রথম থেকেই ইসমাইল হোসেন অত্যন্ত সুনীপুণ ভাবে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য সূচারুরূপেই চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু গত ২০১৮ইং সালে যখন মটোরযান সংশোধনী আইন পাশ হলো এবং তা ২০১৯ইং সালের এর শেষের দিকে সংশোধিত মটোরযান/ ট্র্যাফিক আইন ধীরে ধীরে কার্যকর হতে শুরু হলো তখন নতুন মোটরযান আইন অনুযায়ী জরিমানার হারও ১০ থেকে ১৫ গুণ বৃদ্ধি পেলো ।

আর এই সুবাদে সেই সময় থেকেই ইসমাইলের ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ’ হতে শুরু করলো , ( এখানে উল্লেখ্যযে সিলেট বি আর টি এ অফিসে দুর্নিতি এবং ঘুষ বাণিজ্য ১৬ খলিফার মধ্যে সবাইকে টপকিয়ে একধাপ এগিয়ে ইসমাইলের দুর্নিতি ) ।

অত্যন্ত সুচতুর ধূর্ত স্বভাবের ইসমাইল খুব নিখুঁতভাবে দুর্নিতি ও ঘুষ বাণিজ্যে করেন যার ফলে তিনি সবসময় অধরাই থেকে যান ।

কিন্তু এবার আর তিনি অধরা থাকতে পারলেন না। প্রায় অর্ধশতাধিক ভূক্তভোগীর করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইসমাইলের দুর্নিতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অনুসন্ধানে নামে ‘সাপ্তাহিক সুরমা টাইমসের’ অনুসন্ধানী টিম । আর এই অনুসন্ধানে একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে সিলেট (বিআরটিএ)’র ১৬ খলিফার মধ্যে সব থেকে ভয়ংঙ্কর এবং ধূর্ত ইসমাইলের অজানা অধ্যায় ।( যা পাঠকদের কাছে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হবে ) ।

২০১৯এর শেষের দিকে সংশোধিত ট্র্যাফিক আইনে যখন মটরযানের জরিমানার পরিমান ১০ থেকে ১৫ গুন বৃদ্ধি পায় ,তখন ইসমাইলের ঘুষের মুল্যও বৃদ্ধিপায় ,আগে যেখানে প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রতিটি ফিঙ্গার প্রিণ্টের জন্য অলিখিতভাবে ইসমাইলকে ৩শত থেকে ৪শত টাকা দিতে হতো মটরযান আইন সংশোধিত হবার পর থেকে বেড়েযায় ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহিতাদের চাহিদা , আর তখন থেকেই স্বঘোষিত ভাবে বৃদ্ধিপায় ধূর্ত ইসমাইলের ঘুষের মুল্য তালিকা ।

প্রায় অর্ধশতাধিক ভূক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ও তাদের প্রদানকৃত তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে এবং ‘সুরমা টাইমসের’ অনুসন্ধানে জানাজায় বর্তমানে প্রতিটি ফিঙ্গার প্রিন্টের জন্য ইসমাইলকে দিতে হয় ১হাজার থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত ।আর যারই উক্ত টাকা প্রদানে অপারোগতা প্রকাশ করেন ইসমাইল তাদের নানান ধরণের অজুহাতে যেমন ফিঙ্গার মেশিনে সমস্যা, আপনার দেয়া তথ্যে ভুল আছে ইত্যাদি বিভিন্ন অযৌক্তুিক কারণ দেখিয়ে দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকেন ।

( এখানে উল্লেখ্য যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মটরযান অধ্যাদেশের অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহিতাদের সরকারি উল্ল্যখিত ফী (ক) পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফী – ১৬৮০/-টাকা (০৫ বছরের নবায়ন ফীসহ ) ( খ ) অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ফী – ২৫৪২/-টাকা ( ১০ বছরের নবায়ন ফীসহ )

জমা দিতে হয় এর বাহিরে কুনো প্রকার টাকা প্রদানের প্রয়োজন হয়না )।ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহীতাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট বি আর টি এ অফিসে প্রতিদিন গড়ে ১৫০০শ থেকে ২ হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন জমা হয় । এবং প্রতিদিন দুইশ থেকে তিন শত জনের ফিঙ্গার প্রিন্ট জমা নেয়া হয় । সে হিসাবে প্রতিটি ফিঙ্গার প্রিন্টে ১২শ টাকা হারে ইসমাইল হোসেনকে দিতে হয় ১২০০শত x৩০০শত =৩,৬০,০০০/= ( তিন লক্ষ ৬০ হাজার টাকা,) এই হিসেব অনুযায়ী ৮ কার্যদিবসের সরকারী ছুটির পরও ২২ কার্যদিবসে ইসমাইলের অবৈধ আয় ৩,৬০,০০০ x ২২ = ৭৯,২০,০০০/= ( ঊনআশি লক্ষ বিশ হাজার টাকা )।ব্যক্তিগত জীবনে ইসমাইল চার ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার বড় ,থাকেন শাহপরান থানাধীন বাহুবল এলাকায় নিজ মালিকানাধিন বিলাসবহুল বাড়িতে। ইসমাইলের অবৈধ টাকা রাখার জন্য রয়েছে নামে বেনামে বেশ কয়েকটি ব্যংক একাউন্ট,তিনি চলাফেরা করেন উর্ধতন সরকারি কর্মকর্তাদের মতো , ইসমাইলের পিতার সিলেট বি আর টি এ অফিসে চাকুরির সুবাদে পিতার হাত ধরে সিলেট বি আর টি এতে প্রবেশ করে ইসমাইল ।

প্রথম প্রথম টুকিটাকি দালালির মাধ্যমে ইসমাইলের পরিচিতি ঘটে সিলেট বি আর টি এ অফিসে ।পরবর্তিতে সুচতুর কূটকৌশল বুদ্ধি সম্পন্ন ইসমাইল অতি সহজে অল্প কয়েকদিনের মধ্যে জয় করে ফেলে বি আর টি এর উর্ধতন কর্মকর্তাদের মন ,তাই গত তিন বছর পূর্বে পিতার মৃত্যুর পর পিতার চাকুরির সুবাদে এবং অনেকটাই মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনা থেকেই সিলেট বি আর টি এ কর্তা ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বগিয়েনেন অফিস সহকারী কাম -কম্পিউটার ওপারেটারের পদটি । এবং এই চেয়ারে বসার পর থেকেই দ্বিগুন উৎসাহে দুর্নিতি ও ঘুষ বাণিজ্য শুরু করেন ধূর্ত ইসমাইল হোসেন। এ ব্যাপারে কথা বলতে সিলেট বিআরটিএ’র অফিস সহকারী কাম- কম্পিউটার অপারেটর ইসমাইল হোসেনের ব্যবহৃত মুঠোফোন ০১৭১৭ ১****৪ নাম্বারে একাধিক বার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চলবে

মন্তব্য
Loading...