Sylhet Express

নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শামসুদ্দিন হাসপাতালের বাথরুম

0 ১২৪

দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার ঘোষণা করে এখানে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। শুরু থেকেই এই হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জামের অপার্যপ্ততা ও সেবার মান নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠেছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।

এরমধ্যে নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শামসুদ্দিন হাসপাতালের বাথরুম। দুদিন ধরে এই হাসপাতালের বাথরুম ব্যবহারের অনুপযোগি (লকড) হয়ে পড়েছে। একারণে বাথরুম ব্যবহার করতে পারছেন না হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা।এই দুর্ভোগ বুধবার চূড়ান্ত আকার ধারণ করে করোনা আক্রান্ত এক রোগীর কারণে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একাধিক রোগী জানান, মঙ্গলবার এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে কোভিড-১৯ আক্রান্ত এক রোগী ভর্তি হন। বুধবার থেকে তার পাতলা পায়খানা হচ্ছে। বিছানায়ই তিনি পায়খানা করে ফেলায় পুরো ওয়ার্ডে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও ওই রোগীর মল পরিষ্কার করা হচ্ছে না। এদিকে দুর্গন্ধের কারণে অন্য রোগীরা ওয়ার্ডে থাকতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে দুপুর থেকে তাদের হাসপাতালের বারান্দায় আশ্রয় নিতে হয়েছে।

শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুড়ী উপজেলার করোনা আক্রান্ত এক রোগী বলেন, আমাদের ওয়ার্ডের এক রোগী দুপুরে বিছানায় পায়খানা করেন। এই রোগীর সাথে কোনো স্বজন নেই। হাসপাতালের কর্মীরাও বিছানা পরিষ্কার করছে না। দুর্গন্ধের কারণে আমরা ওয়ার্ডে থাকতে পারছি না। ফলে বাধ্য হয়ে সবাই দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বারান্দায় বসে আছেন।তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে আমরা সেবার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখন এখানে এসে উল্টো আরো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত আরেক রোগী বলেন, হাসপাতালের বাথরুম দুদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। বাথরুমে গিয়ে পানিও পাওয়া যায় না। একারণে খুব সমস্যায় আছি। এছাড়া হাসপাতালের পানির সঙ্কট রয়েছে বলেও জানান তিনি।এ ব্যাপারে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত মহাপাত্র বলেন, বাথরুম দুদিন ধরে লকড হয়ে আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কোনো সুইপার পাওয়া যাচ্ছে না। করোনা হাসপাতাল হওয়ায় এখানে কেউ কাজে আসতে চায় না।

তিনি বলেন, করোনা আক্রান্ত এক রোগীকে পুলিশ এনে এখানে ভর্তি করেছে। রোগীর সাথে তার কোনো স্বজন নেই। তিনি একাধিকবার বিছানায় পায়খানা করেছেন। বারবার পরিষ্কার করার মতো যথেষ্ট পরিচ্ছন্নতা কর্মী আমাদের নেই। এছাড়া প্রতিবার ওই রোগীর কাছে যাওয়ার জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পিপিই পড়তে হয়। এটিও সময়সাপেক্ষ।

তিনি বলেন, আমাদের নানা সঙ্কটের মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে। হাসপাতালের সুইপার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করে। একারণে তাদের আমরা কাজে বাধ্য করতে পারি না। করোনা হাসপাতাল হওয়ায় টাকা পয়সা দিলেও তারা কাজ করতে চায় না।সুশান্ত মহাপাত্র জানান, বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৫৮ জন রোগী ভর্তি আছেন। এরমধ্যে ৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকিরা করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।

মন্তব্য
Loading...