Sylhet Express

করোনা যুদ্ধে সাহসীকতার আরেক নাম সিলেট জেলা পুলিশ

0 ১০০

ফারহানা বেগম হেনাঃ মানুষ মানুষের জন্যে জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ভূপেন হাজারিকার গানের কথাগুলো অনেকের মত আমারও খুব প্রিয়। বাস্তবিক ক্ষেত্রে কথাগুলোর প্রয়োগ ঘটানো গেলে সমাজের চিত্র পাল্টে যেত বলে আমার বিশ্বাস। আমরা হয়তো এর সিকিভাগও পারি না। তবে সমাজে এরকম অনেক মানুষ আছে যারা ভূপেন হাজারিকার এই গানের কথাগুলো বাস্তব ক্ষেত্রে সিংহভাগ প্রয়োগ করে থাকেন। আর একারণেই পৃথীবী এখনো অনেক সুন্দর।

মহামা’রী করোনা ভাইরাসের প্রাদু’র্ভাব দেখা দিয়েছে বাংলাদেশেও। তা প্রতিরো’ধে সারাদেশে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সিলেটেও সচেতনতার পাশাপাশি বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সিলেট জেলা পুলিশ। যার মাধ্যমে স্থানীয়সহ দেশবাসীর অকুণ্ঠ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন সিলেট জেলা পুলিশ বাহিনী।20200601 192913 – BD Sylhet Newsঠিক তেমনি ভাবে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম সিলেট আসার পর থেকেই পাল্টে যেতে শুরু করে সিলেট জেলা। সিলেটবাসী নতুনরুপে দেখছে সিলেট জেলা পুলিশকে যা আগে কখনো সিলেটবাসি দেখেনি। তেমনি ভাবে সিলেট জেলা পুলিশবাহিনী করোনা ভাইরাসের সম্মুখ যুদ্ধে সিলেট বিভাগের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম এর সু-র্নিদেশনায় সিলেট জেলা পুলিশ সিলেটবাসিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন তারাই বাংলার র্সূয সন্তান। চোখে না দেখা এমন এক মরনব্যাধির যুদ্ধে সবাই যখন ঘরে পুলিশ তখন আমাদের জন্য দিন রাত বাহিরে। নিজেদের জীবনের তুয়াক্কা না করে তারা নিরলস ভাবে ছুটে চলেছেন আমাদের তরে। ভাবেননি তাদের পরিবার পরিজনের কথা।

এসপি ফরিদ উদ্দিন যোগদানের পর থেকেই সিলেট জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ এই অফিসার। বিশেষ করে থানা গুলোতে নাগরিকদের আইনী সেবা দিতে তিনি অফিসার ইনচার্জদের প্রতি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। র্বতমানে অনেক পুলিশ সদস্য এসপি ফরিদ উদ্দিনকে তাদের আইডল মনে করে কাজ করে যাচ্ছেন।received 2812122928886276 – BD Sylhet Newsপুলিশ সদস্যরা মানুষকে সামাজিক দূরত্ব মানতে উৎসাহ দিলেও নিজেরা থাকছেন ঝুঁকির মধ্যেই। পুলিশ সদস্যদের আবাসন সমস্যা অনেক পুরাতন। একি রুমে গাদা গাদি করে থাকতে হয় এতেও নেই কোন অথিযোগ তাও এত না পাওয়ার মাঝেও পুলিশ যে সেবা দিচ্ছে তাতে বলতে চাই ধন্যবাদ সিলেট জেলা পুলিশ।

জন্মের পর থেকেই সবকিছুর সাথে বাংলাদেশ পুলিশের নাম শুনেছি, দেখেছি। তারা কি কাজ করেন, অনেকটাই পত্রপত্রিকায় এসেছে। কিছুটা দেখেছি। কিছুটা শুনেছি। দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে সুনাম-দূর্নাম দুটোতেই বাংলাদেশ পুলিশের অনন্য ভূমিকা রয়েছে।

যদিও বাংলাদেশ পুলিশের অতীত সুখকর ছিল না। একাত্তরের পর বর্তমান অবধি মরণ ভাইরাস খ্যাত করোনা পূর্ববর্তী বাংলাদেশ পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তাসহ সম্পৃক্তদের ভূমিকা নিয়ে নানা শ্রেণির মধ্যে ছিল চরম বিষাদাগার। অথচ মরণ ভাইরাস করোনাকে শুধু প্রতিহত নয়, রীতিমতো জয় করতে সিলেট জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য যারপরনাই চেষ্টায় অবিচল। তাদের এ অব্যাহত চেষ্টায় সিলেটবাসি আজ গর্বিত। পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ, কর্মযজ্ঞ, কর্মতৎপরতা, মহানুভবতা, অন্যের বিপদে ঝাপিয়ে পড়া, প্রতিটি নাগরিককে সুরক্ষা দিতে প্রাণপনে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটা আজ সত্যিই সিলেটবাসির জন্য এক অনন্য উজ্জল দৃষ্টান্ত।received 275362040510747 – BD Sylhet Newsমহামারী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সৃষ্ট অচলাবস্থায় আয় রোজাগার কমেছে দেশের মানুষের। অসহায় নিম্নবিত্তের পাশে সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। কিন্তু সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণি অর্থকষ্টে থাকলেও পারিপার্শ্বিক লোকলজ্জার ভয়ে সহযোগিতা চাইতে পারে না। এ দুর্দশায় এ শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সিলেট জেলে পুলিশ। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন না করে মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্ত পরিবারের কাছে গোপনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন পুলিশের সদস্যরা। এটি পুলিশের নিজস্ব উদ্যোগ, সরকারি প্রণোদনা নয়। পুলিশের সমাদৃত এ উদ্যোগ মানুষের হৃদয়ে স্থান পেয়েছে।

দেশের এ সংকটে অনেক মানবিক দৃষ্টান্ত সামনে আসছে। তবে পুলিশের মানবিক উদ্যোগ ও নিরলস কাজ এই বাহিনীকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে সাধারণ মানুষের কাছে।

কোভিড-১৯ নিয়ে আতঙ্কে মানুষ। আর সব ভয় অতিক্রম করে সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। প্রয়োজনে ঝুঁকিও নিতে হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী লোকজনের দাফনের দায়িত্বটুকু পড়েছে পুলিশের কাঁধে। শুধু তা-ই নয়, বিদেশফেরত লোকজনের হাতে কোয়ারেন্টিনের তারিখসমৃদ্ধ সিল বসানোর ঝুঁকি নিয়েছিল পুলিশ। দেশে সৃষ্ট এ অচলাবস্থায় মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মানবিক কাজেও এগিয়ে আসছেন এ বাহিনীর সদস্যরা নানা আলোচনা ছাপিয়ে গত কয়েক দিনে দেশের গণমাধ্যমে ইতিবাচক সব মানবিক কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন এ বাহিনীর সদস্যরা।

আজকের পুলিশ এক নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে। সবাই হাত গুটিয়ে নিলেও পুলিশ সদস্যরা কিন্তু বসে নেই। তারা অবিশ্রান্ত, ক্লান্তি দুরে ঝেড়ে ফেলে অন্যের বিপদে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। ভুলে গেছেন তার পরিবার, স্বজনদের কথা। খাবার নেই, ছুঁটছেন পুলিশ খাবার দেওয়ার জন্য। করোনা সন্দেহে বা উপসর্গ নিয়ে হয়তো অসুস্থ, নতুবা মারা গেছেন। এই পুলিশ সদস্যরাই ছুঁটে যাচ্ছেন। শহর, গ্রামগঞ্জ, পাড়া মহল্লা, হাট বাজার, দোকানপার্ট সবস্থানেই আর কেউ না থাকলেও পুলিশ কিন্তু আছে। তাদের সেবা, তাদের ভালোবাসায় আজ পুরো বাঙালি জাতি অভিভূত হবেন এটা আমার ব্যক্তিগত উপলব্দি।

বছর কয়েক ধরে নেতিবাচক খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ বাহিনী। দূরত্ব ঘোচাতে ‘পুলিশ জনতা, জনতাই পুলিশ’ প্রতিপাদ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এটি সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে সমাজের মানুষের সহায়তায় ‘অংশীদারত্বমূলক পুলিশিং কার্যক্রম’ প্রতিষ্ঠার ধারণা।

অনেক সমালোচনা, অনেক কটূক্তি শুনে সিলেট জেলা পুলিশ আজকের অবস্থানে এসেছে। প্রতিনিয়ত মারামারি, হাঙ্গামা, খুন, মর্গ-হাসপাতাল-আদালতে দৌড়াতে থাকে পুলিশ। পুলিশের মতো এত চাপ নিয়ে পৃথিবীতে আর কোনো পুলিশ কাজ করে কিনা জানা নেই।

যুগ যুগ ধরে পুলিশকে দমিয়ে রাখা হয়েছে। অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে পুলিশকে নিয়ে। এতে প্রকৃত সাহসী ও মেধাবী ছেলেরা পুলিশে আসতে অনীহা প্রকাশ করতেন। কিন্তু সময় বদলে গেছে। এখন দেশের মেধাবীদের কাছে বাংলাদেশ পুলিশ একটি কাঙ্ক্ষিত নাম। পুলিশের এএসপি, সাব-ইন্সপেক্টর, সার্জেন্ট প্রভৃতি পদে প্রতি বছর প্রায় নিয়মিতভাবে নিয়োগ করা হচ্ছে। এসব পদে যোগ দিচ্ছেন ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষ পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ গ্র্যাজুয়েটরা। এমন হাজার হাজার মেধাবী ও সাহসী তরুণের কর্মস্থল যখন বাংলাদেশ পুলিশ, তখন আপনি এই পুলিশে আস্থা রাখতেই পারেন।

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা পৃথিবীকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। মানুষ করোনায় নিজের অসুস্থ মাকে জঙ্গলে ফেলে চলে যাচ্ছে, মৃতদেহের সৎকারে আপনজনরাও অংশ নিচ্ছেন না। কিন্তু পুলিশ প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে বীরের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছেন এসব মানুষের সেবায়। ইতিমধ্যে সিলেটসহ দেশের নানা জেলায় পুলিশের অনেক সদস্য ও কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আপনার আমার জীবন বাঁচাতে পুলিশের জীবন আজ সংকটে। তবু তৃপ্তি এখানেই যে মানুষের জন্য পুলিশ তার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করে যাচ্ছেন।

শুধু কি তাই?

এই পুলিশ তাদের বেতন ভাতা থেকে ২০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। এখান থেকে সাহায্য পাবেন দেশের অসহায় মানুষরা। ফোন করলেই পুলিশ মানুষের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে আসছেন ঘরে ঘরে। মানুষকে ঘরে থাকতে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে নিরন্তর। এ ছাড়া রোগীকে হাসপাতালে পাঠানো থেকে শুরু করে মানুষকে কাউন্সেলিং করা, কোয়ারেন্টিনে থাকা লোকদের সঙ্গ দেওয়া, জনসাধারণের মাঝে মাস্ক-স্যানিটাইজার বিতরণ, মধ্যবিত্তের ঘরে গোপনে খাবার দিয়ে আসাসহ করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার ও কর্মীদের নিরাপত্তা, কবরস্থানের জন্য জায়গা দেওয়া, কবর খোঁড়া, লাশ কাঁধে নিয়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন কাজ করে যাচেছন। এ পাল্টে যাওয়া পুলিশ নিজেদের রেশনের চাল-ডাল-তেল-চিনি অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছে অভাবী মানুষের মাঝে। ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে কেনা খাদ্যসামগ্রী। আমার বিশ্বাস আমাদের সামন্য সমর্থন পেলে আমাদের পুলিশ বাহিনী পৃথিবীর সেরা পুলিশ বাহিনী হিসেবে আত্নপ্রকাশ করবে।

সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয়, আপনি গভীর রাতে আপনার বাচ্চার জন্য দুধ চেয়ে ফোন করলে পুলিশ দুধের প্যাকেট হাতে পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়। এ পরিবর্তিত পুলিশের জন্য রইলো অকৃত্রিম ভালোবাসা। একই সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি মরণভাইরাস করোনার এই মহামারি সময়ে সিলেট জেলা পুলিশ বাহিনী ক্লান্তিহীন ভাবে কাজ করছেন জেলা ও উপজেলায় ।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( মিডিয়া) লুৎফর রহমান বলেন,এসপি ফরিদ উদ্দিন পিপিএম সিলেট জেলায় যোগদান করার পর থেকেই পাল্টে গেছে সিলেট জেলা পুলিশ বাহিনীর সকল কার্যক্রম আমরা গর্বীত এমন একজন এসপি ফরিদ উদ্দিন পিপিএম এর মতো মহত গুনের মানুষের পাশে থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি ক্ষুদ্র জীবনে আমি অনেকের সাথে কাজ করার সৌভগ্য হয়েছে কিন্তু এসপি ফরিদ উদ্দিন পিপিএম উনার মানবিকতার ধারা অব্যাহত রেখে অভিজ্ঞতা ও আধুনিকতাকে কাজে লাগিয়ে যে ভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন সিলেট জেলা পুলিশকে তা সত্যি দৃষ্টান্ত রাখার মতো।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও মিডিয়া) মো: লুৎফর রহমান আরও বলেন,আমরা যে যেই লেভেলেই পেশাগত দায়িত্ব পালন করি না কেন সব কিছুর মূলে রয়েছে মানব কল্যাণ। যথাযথভাবে মানব কল্যাণ করাটাই মূল দায়িত্ব, সেই দৃষ্টিকোন থেকেই হয়তো পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন স্যারের প্রতিটি কাজে কর্মে এরকম চিত্র ফুটে উঠছে। মানব কল্যাণে স্যারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো সিলেট জেলা পুলিশের সকল সদস্যসহ সমাজের অনেকেই অনুকরণ করবে বলে আশা রাখছি। আল্লাহ আমাদের সকলকে রক্ষা করুন।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সম্মুখ যোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা যাই করিনা কেন তা কমই হবে। সত্যি আপনাদের এই মহতী মনের কথা গুলো হয়তো আমি লিখে শেষ করতে পারবোনা তাও চেষ্টা করেছি এই লিখার মাধ্যমে সিলেট জেলা পুলিশবাহিনীকে আমার ও সিলেট বাসীর পক্ষ থেকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানোর নিমিত্ত প্রয়াস মাত্র।

মন্তব্য
Loading...