Sylhet Express

হেলপার থেকে চালক, শ্রমিকনেতা ফলিক শত কোটি টাকার মালিক

0 ১০৯

সিলেটে পরিবহন সেক্টরে অঘোষিত সম্রাট সেলিম আহমদ ফলিক । পরিবহন সেক্টরের ৬২ উপশাখা তার নিয়ন্ত্রনে । এসব সেক্টর থেকে মাসোয়ারা আসে প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা । এই টাকা দিয়ে তিনি চলেন রাজার হালতে । প্রায় ২০ বছর ধরে তার এই রাজত্ব চলছে । শ্রমিকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলার টাকা দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন বিত্ত বৈভব।বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, অঢেল জায়গা সম্পদ আর বেশ ক’খানা যাত্রীবাহী বাস রয়েছে তার মালিকানায় ।

তিনি এখন শত কোটি টাকার মালিক । একসময় ছিলেন ট্রাকের হেলপার । তারপর পরিচয় ট্রাক চালক । সেখান থেকেই উত্তানপর্ব শুরু । বিএনপি জামাতের শাষনামলে মির্জা আব্বাস সমর্থিক শ্রমিক সংগঠনের সাথে হন যুক্ত । আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি । আওয়ামী জমানায় ওসমান আলী আর শাহজাহান খানের নের্তৃত্বে নিজেকে আওয়ামী ঘড়ানার শ্রমিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন । সেই থেকে প্রায় ১৩ হাজার শ্রমিকের নেতা হয়ে যান ফলিক । এই শ্রমিকরা তার ইশারায় চলেন।

পরিবহন ধর্মঘট তার প্রধান অস্ত্র । এই অস্ত্রকে কাজে লাগিয়ে ফলিক হয়ে উঠেন সিলেটের পরিবহন রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি । তার এই ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে গড়ে তুলেন ক্যাডার বাহিনী । এই ক্যাডার বাহিনীর নের্তৃত্বে তারই পুত্র রুকন । সাধারন শ্রমিকরা রুকনের ভয়ে কম্পমান । কারন ফলিকের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই কদমতলী বাস ট্রামিনালে রুকনের অবৈধ অস্ত্র গর্জে উঠে । এই রুকন ট্রামিনালে মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত । প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসার নের্তৃত্ব দিচ্ছে ফলিক পুত্র রুকন । সিলেটের এনা পরিবহনের কাউন্টার তার দখলে । তিনিই দেখাশোনা করেন যাবতীয় কর্ম । এই এনা পরিবহনেও তার ২টি বাস আছে ।

সিলেট ঢাকা রুটে চলাচলকারী “লন্ডন এক্সপ্রেস” ও তার ব্যবসার আরেক সাইড । এখানেও আছে আরেকটি বিলাসবহুল বাস । সিলেট জকিগঞ্জ লাইনে চলছে তার মালিকানাধীন গাড়ি । আছে ৪টি ট্রাক এবং বেশ কিছু সিএনজি অটোরিক্সা । কেউ নতুন গাড়ি নামাতে হলে তাকে দিতে হয় নগদ টাকা । টাকা না দিলে গাড়ি চলবে না । সিলেটের পরিবহন সেক্টর মুলত বিএনপি জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ।

ফলিক সামনে আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড ব্যবহার করলেও বিএনপি জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি সবসমই সোচ্চার । বিগত সময়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করতেও তিনি পিছপা হন নি । করোনাকালীন পরিস্থিতিতে শ্রমিকের পাশে না দাঁড়িয়ে তাদের কল্যাণ ফান্ডের টাকাও হজম করে নিয়েছেন ফলিক । এনিয়ে ফুঁসে উঠেছে পরিবহন শ্রমিক সেক্টর । তাদের টাকা ফেরত দেয়ার দাবীতে তারা আন্দোলনে নেমেছে । সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি রুনু মিয়ার নের্তৃত্বে শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে এ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে । ইতিমধ্যে ফলিককে তারা ধাওয়াও করেছে । এর জেরে তাদের টাকার হিসেব না দিয়ে ফলিক পুত্র রুকন তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে সাধারন শ্রমিকের উপর হামলা করে ।

এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও অবনতি করেছে । গত সোম ও মঙ্গলবার এনিয়ে কদমতলী এলাকায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে । এতে অনেকেই আহত হন । এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফলিক এখন মাইক্যার চিপায়। তার ডাকে যারা রাজপথের দখল নিতো, চাকা বন্ধ করে দিতো, আজ তারাই ক্ষেপেছে তার উপর। এই শ্রমিকরা ফলিককে গ্রেফতারের দাবীও জানাচ্ছে । তার অবৈধ সম্পদের উৎস বের করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছে ।

অভিযোগ আছে ফলিক তার ক্ষমতাবলে কাগজপত্র নেই এমন গাড়িও রাস্তায় চালাতো । সিলেট বিভাগের মধ্যে বিভিন্ন রুটে এমন রেজিষ্টেশনবিহীন গাড়ি আছে প্রায় ২০ টি । এই অবৈধ গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনও কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনা । ব্যবস্থা নিতে গেলেই ফলিকের হুমকি “চাকা বন্ধ” । এ্যাকশন তো দুরের কথা-তার বিরুদ্ধে মামলা করতেও ভয় পায় প্রশাসন ।

মন্তব্য
Loading...