Sylhet Express

সেই ওসি মোয়াজ্জেমকেও হার মানাল কেন্দুয়া থানার ওসি

0 ৩১৭

ফেনীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী থানায় গিয়েছিল মাদরাসা অধ্যক্ষ কর্তৃক যৌন হয়রানির আইনি প্রতিকার চাইতে। কিন্তু ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতিকারের বদলে আবারও একই ধরনের হয়রানি করেছেন। গত বছরের এমন মর্মস্পর্শী ঘটনা সারাদেশের মানুষকে এখনও পীড়া দিয়ে যাচ্ছে। এরই মাঝে আরেক ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়ায়। অভিযোগ উঠেছে কেন্দুয়া থানার ওসি রাশেদুজ্জামান এক ধর্ষীতা স্কুল ছাত্রীকে চোখ ও পেছনে হাত বেঁধে ভয়-ভীতি দেখিয়েছে । এঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই এমনটি করেছেন ওসি।নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার শান্তিনগরের সোহরাব মাষ্টারের বাসায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে ছিলিমপুরের বাসিন্দা মুকুল খানের পুত্র পিন্স খান বাবু। গত ২৯ জানুয়ারি বিকালে ঘটনা ঘটনো হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষণের শিকার ভিকটিমকে উদ্ধার এবং ধর্ষণকারী বাবুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার পরদিন ৩০ জানুয়ারি ভিকটিমের বড় ভাই কেন্দুয়া পৌর শহরের ডিকদাইল গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম থানায় গিয়ে ওসি রাশেদুজ্জামান বরাবর বোনকে জোরপূর্বক ধর্ষনের অভিযোগ দায়ের করেন। থানার ওসি প্রথমে বিষয়টি পজেটিভ হিসাবে নিলেও অজ্ঞাত কারণে ওসি কামরুল ইসলামকেই থানা হাজতে ১৪ ঘন্টা আটক করে রাখে।উপরন্তু ওসি তাকে হুমকি দেয় যে, এবিষয়ে মামলা করলে অন্য মামলায় তোর বোন এবং তোকে আটক দেখিয়ে কোর্টে চালান দিব।ওসি শাসিয়ে বলে,তোর বোন খারাপ প্রকৃতির মেয়ে। পতিতার ব্যবসা করে। হুমকি শেষে ধর্ষণের শিকার ১৬ বছর বয়সী ঐ ভিকমি এবং তার বড় ভাইয়ের নিকট থেকে ওসি সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে থানা থেকে বের করে দেন । কামরুল ইসলাম থানা থেকে বের হয়ে বিষয়টি নেত্রকোনার পুলিশ সুপারকে (এসপি) জানান।

এসপি বিষয়টি অবগত হয়ে বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে ওসিকে মামলা নেয়ার নির্দেশ দেন। পরে ওসি ফোন করে কামরুল ইসলামকে জানায় যে, মামলা নেয়া হবে। ওসি থানায় আসতে বলেন। বোনকে নিয়ে থানায় এলে ওসি তাদেরকে আলাদা রুমে আটকে রাখেন। হুমকি দেন,তোদের কতবড় সাহস আমার বিরুদ্ধে এসপির কাছে অভিযোগ করেছিস।দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টা থানায় আটকে রেখে আবারও পৃথক দুটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে বলেন যে, মামলা নিব। তোরা এখন যা। এরপর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও অভিযোগটি মামলা আকারে রেকর্ডভুক্ত করেনি ওসি। করোনা পরিস্থিতিতে আদালতে গিয়েও মামলা করতে পারেননি ভুক্তভোগীরা। কারণ আদালত বন্ধ। অভিযোগ ভূক্তভোগীদের। কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ওসির ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে ৬ মাস যাবৎ আমরাই পলাতক জীবন- যাপন করছি। ধর্ষণের শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থী জানান, ওসি রাশেদুজ্জামান আমাকে অশালীন ভাষঅয় খারাপ খারাপ কথা বলেছেন। তখন আমি তাকে বলেছি আমি আপনার মেয়ের মত । তারপরও তিনি আমাকে বেশ্যাসহ নানান গালিগালাজ করেন।

একজন নারী পুলিশকে দিয়ে আমার চোখ বেঁধে হাত পেছনে বেঁধে ৬ ঘন্টা আটকে রাখেন । ধর্ষক বাবু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির পুত্র হওয়ায় বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা চলছে । এদিকে কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা নিতে এবং ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইজিপি বরাবর গত ৮ জুন একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন । কামরুল ইসলাম বলেন, ওসি আমাকে ক্রাস ফায়ারের ভয় দেখানোয় এসপিকে আর জানাইনি।

কেন্দুয়া থানার ওসি রাশেদুজ্জামান বলেন, এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। অভিযোগ রয়েছে, অনিয়মসহ বিভিন্ন ঘটনায় ওসি রাশেদুজ্জামানকে নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। এব্যাপারে তার বিরুদ্ধে তদন্তও করছে জেলা পুলিশ।জানা গেছে, ফেনীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্য ভিডিওতে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়ে ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে আট বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস-সামছ জগলুল হোসেন এই রায় ঘোষণা করেছেন।

মন্তব্য
Loading...