Sylhet Express

নগরীর কালীঘাটে কিছুতেই থামছে না শিলং তীর জান্ডুমান্ডু নামক জুয়া, বেপরোয়া জুয়াড়িরা

0 ১৭৫

স্টাফ রিপোর্টারঃ সিলেট নগরীর কালীঘাট এলাকায় কিছুতেই থামছে না ভারতীয় শিলং তীর জান্ডুমান্ডু নামক জুয়া খেলা। দিনে টোকনের মাধ্যমে তীর খেলা আর রাতে বসে ঝান্ডু-মান্ডু জুয়ার আসর। এই জুয়ার বোর্ড বসিয়ে দিনমজুর থেকে অনেকে হয়ে উঠেছেন কোটিপতি। আর যারা এই জুয়া খেলতে আসে তারা হারাচ্ছে সর্বত্র। অনেকেই সব কিছু হারিয়ে পথে বসতে হয়েছে।থানা পুলিশ মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে দু’একজনকে আটক করলে,আদালতের মাধ্যমে তারা জামিনে বের হয়ে আবার এ খেলায় বেপরোয়া হয়ে উঠে।এমন কর্মকান্ড দেখে স্থানীয়রা বাকরুদ্ধ।

জানা গেছে, কালিঘাটের বস্তাপট্টি নামক মার্কেটে নিচ তলায় রড-সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান।দুটি গলির একটু ভিতরে গেলে দেখা যায় দু’তলার ছাদের সিঁড়ি।বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই ছাদের এক পাশে রাখা পলিথিন ও পাটের বস্তার বান্ডিল।তাই এই মার্কেট সবার কাছে বস্তামার্কেট নামে পরিচিত।অপর পাশে চেয়ারে বসে আছেন যুবক।নাম জামাল,টেবিলে আছে কাগজের কিছু টুকরো।

জুয়া খেলতে সারি বেঁধে আসছেন নানা পেসার লোকজন।একই জায়গার চিত্র পালটে যায় সন্ধ্যার পর। সন্ধ্যার পর বসে ঝান্ডু-মান্ডু জুয়া আসর। দল বেধেঁ জুয়াড়িরা ঝান্ডু-মান্ডুর খেলেন।এই জুয়ার বোর্ডের নেতৃত্ব দেন ছাত্রদলের শরীফ আহমদ।কালীঘাটের বোর্ডের শরীফের সহযোগী জামাল,দিনে তীর শিলং ও রাতে ঝান্ডু-মান্ডু জুয়ার আসর বসান।এখানেও শরীফের সহযোগী কয়েকজন জুয়ার আসর পরিচালনা করেন।শরীফ ৬ বছর আগে একটি কাপড়ের দোকানে চাকরী করতেন।কিন্তু জুয়ার বোর্ডের অদৃশ্য টাকায় এখন তিনি কোটিপতি।

নগরীতে রয়েছে তার ৩ তলা বাসা,রয়েছে দামী গাড়ি।শ্রমজীবি মানুষরা লোভে পরে এই জুয়াখেলে।আর তারা এরকম ধান্দাবাজী করে গরীবের ধন হাতিয়ে নিয়ে বিলাশ বহুল জীবন যাপন করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়,করোনাভাইরাসের অভিঘাতে সারা দেশের মানুষ স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি। চলাচল ও কাজকর্ম সীমিত। এ সুযোগে সিলেটের চিহ্নিত জুয়াড়িরা জমজমাট জুয়ার আসর বসিয়ে এ এলাকায় ব্যাপক লোকসমাগম ঘটাচ্ছে।ফলে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,

জুয়ার আসরে আসা বহিরাগতদের কারণে তাঁরা করোনা ঝুঁকির আতঙ্কে রয়েছেন।কিছু অসৎ পুলিশ এসব জুয়ার বোড মালিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে সুবিধা নেয়াই এই শিলং নামে জুয়া খেলা কিছুতেই থামছে না।যার ফলে প্রশাসনের উর্দতন কতৃপক্ষের নেতৃত্বে মাঝে মধ্যে তীর খেলা বন্ধে অভিযান চললেও কোনো সুফল মিলছে না। সাম্প্রতিক সময়ে কালিঘাট এলাকায় শিলং তীর এবং ঝান্ডুু-মান্ডু খেলার উৎপাত দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ এলাকায় প্রকাশ্যেই শিলং তীর খেলার টোকেন বিক্রি হওয়ায় নারী-পুরুষ দল বেঁধে এই তীর নামক জুয়া খেলায় লাভের আসায় প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে। লাভতো দূরের কথা প্রতিনিয়ত এসব খেলে অনেকেই নি:স্ব হচ্ছে।

আর ভারতীয় এ ভাগ্যেও খেলায় স্কুল-কলেজের ছাত্র, দিনমজুর, রিকশাচালক, যানবাহন চালক-শ্রমিকসহ বেকার যুবকরা বেশি অংশ নিচ্ছে।
প্রতিদিন বিকাল সোয়া ৪টায় ও সাড়ে ৫টায় ও রাত সাড়ে ১০টায় এ লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। খেলার ফলাফল দেওয়া হয় অনলাইনে। ভারতের শিলং থেকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জুয়ার আসরটি পরিচালনা করা হয়। আর এ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনেও ফলাফল জানা যাচ্ছে। আর এসব জুয়ার নেতৃত্বে রয়েছে এলাকার প্রভাবশালী কিছু লোকজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান,তাদের অনেক ক্ষমতা, ডিউটি পুলিশও জুয়ার বোর্ডে টাকা নিতে আসে তাছারা শরীফের ভাই তাতিলীগ নেতা তাদের অনেক দাপট।তারা আরও বলেন এলাকায় ডিজিটাল জুয়াড়ি শরীফ নামে পরিচিত।তারা এনড্রয়েড ফোন সেটের মাধ্যমে নম্বর বইয়ের মালিকরা দেখান ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে নম্বর টোকেন বিক্রি করেন।

এই খেলাটি চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করতে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।তাদের মধ্যে শরীফের রয়েছে আলাধা ধাপট তার বড় ভাই সরকার দলের নেতা। তাকে কিছুই করার ক্ষমতা নেই কারও। ছাত্রদলের শরীফ আহমদের দম্ভোক্তি!

শরীফের সহযোগী জামালের সাথে আলাপ করলে সে বলে,এই বোর্ডের মালিক ছাত্রদলের শরীফ আহমদ।আমরা কমিশনে কাজ করি।আপনি কোনো কিছু বলতে হলে তাকে বলেন।পুলিশ সূত্রমতে, গত কয়েক মাসে সিলেটে অন্তত শতাধিক জুয়ার আসর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।আর এই অভিযানে সবচেয়ে বেশি প্রশংসার দাবিদার মহানগর পুলিশ। কিন্তু জুয়ার আসর বন্ধ করা হলেও ফাঁড়ি ও কিছু অসাধু পুলিশের মাঠপর্যায়ের সদস্যদের কারণে এসকল জুয়া খেলা ফের ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে পুরো সিলেটের আনাচে-কানাচে।

এ ব্যাপারে বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূঁইয়া বলেন,আমার জানা ছিলনা এখন জানলাম তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যয় অভিযান চলবে।

মন্তব্য
Loading...