Sylhet Express

এখনো অধরা শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী মামুন !

0 ৪৮২

বিশেষ প্রতিবেদক::সিলেট জেলাতে পুলিশ প্রশাসন বিগত দিনথেকে শুরুকরে এযাবৎ পর্যন্ত চলমান মাদক নির্মূলের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে সফল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তবে শাহপরান (রহঃ) থানা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকায় একটি মহল এখনো বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে মরণনেশা ইয়াবা থেকে শুরুকরে বিভিন্ন ধরণের মাদকের ব্যাবসা। নগরীর অভিযাত এলাকা উপশহরের এইচ ব্লকের এক,দুই,তিন,নং রোডসহ বিভিন্ন এলাকাকে মাদকের স্বর্গরাজ্য পরিনত করেছে মামুন হোসেন প্রকাশ ইয়াবা মামুন । ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ,উল্লেখিত এলাকায় মাদক ব্যাবসায়ী মামুন হোসেন প্রকাশ ইয়াবা মামুন স্থানীয় ক্ষমতাধর প্রভাবশালীদের ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তির নাম ব্যাবহার করে জমজমাট মাদক ব্যাবসা পরিচালনা করছে।

অনুসন্ধানে এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানাজায়, ইয়াবা মামুন উপশহর এলাকার এইচ ব্লক ৪ নং রোডের একটি ৫ তালা বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকে। ঐ বাসায় থাকাবস্থায় শুধু ইয়াবা ব্যবসা পরিচানা করার জন্য মামুন উপশহর এলাকার ৩ নং রোডের শামিম মিয়ার বাগানবাড়ী ভাড়া নেয় এবং সেখান থেকেই সে পরিচালনা করছে তার মাদক ব্যাবসা। শুধু তাই নয় মাদক ব্যাবসা পরিচালনার জন্য পুলিশের গতিবিধির ওপর নজরদারী রাখতে ইয়াবা মামুন উক্ত বাগানবাড়ীর টিনসেড ঘরের একমাত্র প্রধান গেইটে সেন্সর লাইট লাগিয়ে রেখেছে যাতেকরে এই গেইটের ভেতর কেউ ডুকলেই সিগন্যাল লাইট জ্বলেউঠে। এভাবে অভিনব পন্থায় মামুন চালিয়ে যাচ্ছে তার ইয়াবা সম্রাঞ্জ ।।
এ ব্যাপারে জানতে উক্ত বাগানবাড়ীর মালিক শামীম আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন মামুনের ইয়াবা ব্যাবসার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা । তিনি আরো বলেন আমার কাছ থেকে বাগান বাড়ীটি মামুন ও আলী হোসেন রিকশার গ্যারেজ করবে বলে ভাড়া নিয়েছে তবে এখন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে বাড়ীভাড়া সংক্রন্ত কোন রকম ডিট করতে পারিনি। ডিটের কথা বললেই তারা আজ/কাল করবো বলে সময় ক্ষেপন করতে থাকে। আর গত দুই তিনদিন ধরে মামুন আমার ফোনই ধরছে না ।।

ইয়াবা মামুন দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে লাখ লাখ টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগওঁ পাওয়া গেছে।কিন্তু এতকিছুর পরেও এখনো অধরা।

এলাকাকাবাসী ও সুরমা টাইমসের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ইয়াবা মামুন দীর্ঘদিন ধরে সমাজ বিধ্বংসী মরণনেশা ইয়াবা ও গাজা ব্যাবসার আধিপত্য জুড়ে বসলেও তা দমনে শাহপরান (রহঃ) থানা পুলিশের কোন হস্তক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। পুলিশের দৃষ্টিহীণতার কারণে মামুন হোসেন ওরফে ইয়াবা মামুন তার মাদকের ব্যবসা রমরমা করে তুলেছে। সূত্রমতে এস এম পি”র শাহপরান(রহঃ) থানা পুলিশের জনৈক এস.আই”র পরোক্ষ সহযোগিতায় মামুন বেপরোয়া ভাবে বিনা বাধায় তার এই মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে এলাকার তরুন ও যুব সমাজ অতিসত্বর নিজেদের ধ্বংসলীলায় নিজেরাই অবতীর্ণ হতে চলেছে।
নাম প্রকাশ নাকরার শর্তে অনেকেই বলেন ইয়াবা মামুন পাথরের ব্যবসার নাম করে পাথরে গাড়ি দিয়ে তার ইয়াবা সিলেটের বিছনাকান্দি সীমান্ত থেকে তার মনোনীত লোকদিয়ে শহরে নিয়ে আসত। বর্তমানে ঐ এলাকার অনেক পাথর ব্যবসায়ী মামুনের নিকট পাথরের টাকা পায়।
স্থানীয় অনেকে মন্তব্য করে বলেন, মামুন বর্তমানে যে বাসার ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকে বর্তমানে সেই বাসার ভাড়া পরিশোধ না করেই ক্ষমতার বলে আছে,এবং তার অফিস ও লোকদেখানো মুদির দোকান এক সাথেই পাশাপাশি দুই রুম সেই দুই রুমের ভাড়াও সে দেয়না বলে অভিযোগ করেন ঐ জায়গার মালিক ।
তাছাড়াও মামুনের আরেকটি চোর ও ঝাপটা পার্টি আছে তারা নগরীর বিভিন্ন জায়গায় চুরি,ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে তার একটি বড় অংশ মামুনকে দেয়,
নাম প্রকাশ নাকরার শর্তে মামুনের চোর সিন্ডিকেটের এক সক্রিয় সদস্য এ প্রতিবেদককে জানায় আমরা যেখানেই সুযোগপাই যেমন, বিভিন্ন বাসাবাড়ী,মার্কেটের মহিলা কাস্টমার,তাদের আমরা টার্গেট করে সুযোগবুঝে তাদের সাথেথাকা ভ্যানেটি ব্যাগ,মোবাইলফোন এগুলো আমরা নিয়ে পালিয়ে আসি। তারপর রাতে ঐগুলো আমরা মামুন ভাইর কাছে জমাদিয়ে নিজের অংশ বুঝেনেই। কারন চুরি করতেগিয়ে কোন জায়গায় আমরা ধরাখেলে বা পুলিশের হাতে আটক হলে,মামুন ভাই তার লোকদিয়ে আমাদের থানা থেকেই ছাড়িয়ে নিয়ে আসে ।।
মামুন হোসেন ওরফে ইয়াবা মামুনের মাদক বাণিজ্যনিয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হবার পরথেকে বর্তমানে মামুন অনেকটা আত্মগোপনে রয়েছে। কিন্তু এতেকরে থেমেনেই মামুনের ইয়াবা সম্রাঞ্জ, সে তার আপন ভাগিনা ও তার বিশ্বস্ত সহযোগী রাহুল ও আলী হোসেনকে দিয়ে নির্দিধায় চালিয়ে যাচ্ছে জমজমাট মাদক ব্যাবসা। ইয়াবা মামুনের মাদক ব্যাবসা সহ বিভিন্ন অপকর্মে কয়েকটি এলাকার লোকজন অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। তার মরণনেশা ইয়াবার ভয়ানক ছোবল থেকে এলাকার তরুন ও যুব সমাজকে রক্ষার্থে প্রশাসনের উর্দ্ধতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ অত্যাবশ্যক বলে মনে করছেন উপশহর এলাকার সচেতন মহল ।

কে এই ইয়াবা মামুন::—

সিলেট শাহপরান (রহঃ) থানাধিন পীরের বাজারের কুনিরচক গ্রামের সাবেক পকেটমারদের সর্দার সিলেটের শীর্ষ দুই পকেটমার ও একাধিক ছিনতাই মামলার আসামী আলী আহমদ,ও অলি আহমদের সহযোগী ও বর্তমানে সিলেটের শীর্ষ নারী ছিনতাইকারী চক্রের গডফাদার খ্যাত আব্দুল মান্নান ওরফে (পকেট চোর মন্নান) ওরফে ভাংগারি মন্নানের সুযোগ্য পুত্র মামুন হোসেন ওরফে ইয়াবা মামুন । মামুন দীর্ঘদিন জালটাকার ব্যাবসা ও ছিনতাই কর্মে জড়িত ছিলো, জাল টাকাসহ র‌্যাবের হাতে আটক হয়ে এবং একাধিক ছিনতাই মামলায় দীর্ঘদিন হাজতবাসের পর হাজত থেকে বেরহয়ে নিজের অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নগরীর উপশহর এলাকায় বিএনপি ছাত্রদলের নাম ভাঙ্গিয়ে গড়ে তুলে নিজস্ব সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী বাহিনী। তারপরথেকে আর মামুনকে পেছনফিরে তাঁকাতে হয়নি। উত্তরাধীকারসূত্রে প্রাপ্ত অপরাধ জগতের খুটিনাটি জেনে কিভাবে কাকে ম্যানেজ করতে হয় পিতার কাছ থেকে সেই দীক্ষায় দীক্ষীত হয়ে পুলিশের গুটিকয়েক অসাধু সদস্যদের হাতকরে মামুন গড়েতুলে তার জালটাকা, ছিনতাইকারী চক্র এবং ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের বিশাল সম্রাঞ্জ। আর বিনাবাঁধায় তার এই বেপোরায়া অপকর্মে ও ইয়াবা ব্যাবসার সুবাদে সে নিজেই এখন ইয়াবা সম্রাট ।। কারণে দেশব্যাপী চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে মামুনের সহযোগীরা মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হলেও মামুন ওরফে ইয়াবা মামুন পুলিশের কতিপয় আসাধু সদস্যের কারণে এখনো রয়েগেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে ।। যেখানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিতি অবলম্বন করছেন এবং জননেত্রীর নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করেছেন, সেখানে পুলিশের কতিপয় আসাধু সদস্যের কারণে মামুন ওরফে ইয়াবা মামুন নিজেকে এতোটাই ক্ষমতাধর মনেকরে যে বিভিন্ন সময় সে নিজেই পুলিশের টহল সি এন জি অটোরিক্শায় অথবা অসাধু পুলিশ সদস্যের মটরসাইকেলের পেছনে বসে নগরীতে ঘুরে বেড়ায় । যা অনেকটা আতঙ্কিত করে তুলেছে শান্তিপ্রিয় উপশহরবাসীকে। সুশীল সমাজের অনেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, একাধিক ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলার আসামী এবং কুখ্যাত একজন মাদক ব্যাবসায়ীর সঙ্গে পুলিশের কতিপয় সদস্যের দহরম মহরম ভাব দেখে আমরা অবাক হয়ে যাই । এখানেতো আমাদের সন্তানরা নিরাপদ নয় । পূর্বে মামুন যতবার গ্রেফতার হয়েছে বেশীরভাগ সময় তার পিতা সিলেটের শীর্ষ নারী ছিনতাইকারী চক্রের গডফাদার খ্যাত আব্দুল মান্নান ওরফে ভাংগারি মন্নান মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাকে ছাড়িয়ে এনেছেন, বেশিরবাগ ক্ষেত্রে সে থানা থেকেই চলে আসে । তাই এখন পর্যন্ত কোনএক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় থেমে নেই মামুনের ইয়াবা সম্রাঞ্জ।

আর পুলিশের এমন নীরব ভুমিকায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে গুটা প্রশাসন ।

যদিও কিছুদিন পূর্বে মামুন হোসেন ওরফে ইয়াবা মামুনের বিষয়ে বিস্তারিত জেনে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ( মিডিয়া ) জ্যোতির্ময় সরকার পিপিএম এবং শাহপরান (রহঃ)থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছিলেন যে মামুনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

**** আগামী পর্বে থাকছে মামুন ওরফে ইয়াবা মামুনের ঋণ দানের নামে গরীব অসহায় লোকদের সর্বশান্ত করার কাহিনী…….

মন্তব্য
Loading...