১২ লাখের ‘হিরো আলম’ অবশেষে ৪ লাখে বিক্রি

0 ২৬১

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের সেই ৩১ মণ ‘হিরো আলম’কে রাজধানীর গাবতলীর হাটে তোলা হয়েছিল। সেখানে ছয় দিন ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে খামারি জয়নব বেগমকে। কেউ কাঙ্ক্ষিত দাম বলছিল না। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন জয়নব বেগম। একপর্যায়ে হিরো আলম নামের ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টিকে চার লাখ টাকায় বিক্রি করেন। গত ২০ জুলাই গাবতলীর হাটে ষাঁড়টিকে বিক্রি করা হয়।

উপজেলার ফাজিলহাটী ইউনিয়নের বটতলা গ্রামের প্রবাসী কামরুজ্জামানের স্ত্রী জয়নব বেগমের খামারের গরু এটি। পুরান ঢাকার একটি এতিমখানা কর্তৃপক্ষ ষাঁড়টি কিনেছেন। ‘হিরো আলমের’ বয়স প্রায় চার বছর। লম্বা সাড়ে আট ফুট। উচ্চতা পাঁচ ফুট সাত ইঞ্চি। দাম হাঁকানো হয়েছিল ১২ লাখ টাকা। গত ৮ জুলাই ‘হিরো আলমের ওজন ৩১ মণ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।

এরপর ষাঁড়টি আলোচনায় আসে। গাবতলীর হাটে ‘হিরো আলমকে’ দেখতে যান অনেক ক্রেতা। জয়নব বেগম বলেন, ‘হিরো আলমকে গাবতলীর হাটে উঠানো হয়। হাটে ছয় দিন ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। কেউ কাঙ্ক্ষিত দাম বলছিল না। ছয় দিন পর পুরান ঢাকার এক এতিমখানার কর্তৃপক্ষের কাছে ষাঁড়টিকে চার লাখ টাকায় বিক্রি করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ষাঁড়টি দুই লাখ ৭৬ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন লালন-পালন করতে এবং তার পেছনে সবমিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আমরা ষাঁড়টির কাঙ্ক্ষিত দাম পাইনি। প্রায় এক লাখ টাকা লোকসান হয়েছে আমার।’

জয়নব বেগমের স্বামী কামরুজ্জামান বলেন, ‘তিনটি ষাঁড় গাবতলীর হাটে নেওয়া হয়েছিল। হাটে ৪৫ হাজার টাকা দিয়ে জায়গা ভাড়া করা হয়। ষাঁড়টি আমরা ১২ লাখ টাকা চাচ্ছিলাম। কিন্তু বড় গরুর ক্রেতাই পাচ্ছিলাম না। পরে চার লাখ টাকায় বিক্রি করি। কাঙ্ক্ষিত দাম পাইনি। তবে দুটি ছোট গরুর কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়েছে।

জায়গা ভাড়া বাবদ ৪৫ হাজারসহ হাটে ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। হাটের জায়গা ভাড়া আরও কমানো উচিত।’ প্রসঙ্গত, জয়নব বেগম প্রতি বছর কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য কয়েকটি করে ষাঁড় প্রস্তুত করেন। গত বছরও ৩৫ মণ ওজনের একটি ষাঁড় প্রস্তুত করেছিলেন। ওই ষাঁড়টির নাম রেখেছিলেন ‘সোনা বাবু’। প্রতি বছরই তার গরু নিয়ে আলোচনা চলে সর্বত্র।

মন্তব্য
Loading...